আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের জীবনী মুবারক পাঠের ফাযায়িল-ফযীলত
উসওয়াতুন হাসানাহ | ২ রবীউছ ছানী, ১৪৩৫ হি:

আওলিয়া শব্দটি বহুবচন। একবচন ওলী। ওলী অর্থ- বন্ধু অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক ইত্যাদি। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীভ, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাঁদেরকে তরবিয়ত দান করেন, পৃষ্ঠপোষকতা করেন উনাদেরকে আওলিয়া বলা হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “সাবধান! নিশ্চয়ই আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের কোন ভয় নেই এবং কোন চিন্তা নেই। (সূরা ইউনুস/৬২)

উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বন্ধু। উনাদের জীবনী মুবারকে আছে  ইবরত, নসীহত। উনাদের জীবনী পাঠ করা অন্যতম ইবাদত। আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মারিফত, মুহব্বত লাভের শিক্ষা। অপসংস্কৃতি হতে মুক্তি পাওয়ার আদর্শ। উনাদের জীবনী পাঠে সন্ধান পাওয়া যায় মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক রহমতের। আখিরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইহসানের। আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের ছোহবতের অভাব পূরন করে উনাদের জীবনী মুবারক। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুহসিন তথা আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের নিকটবর্তী। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত  ৬৫)

উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত ও ইহসান ব্যতীত হেদায়েত পাওয়া যায়না। ইহা ভিন্ন হক্ব মত ও হক্ব পথে ইস্তিকামাত থাকা কল্পনাতীত। সে রহমত ও ইহসান লাভের জন্য আওলিয়ায়ে কিরামের ছোহবত ইখতিয়ার করা ফরয। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ পাককে ভয় কর এবং ছদেক্বীন তথা আওলিয়ায়ে কিরামের ছোহবত ইখতিয়ার কর।” (পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৯)

মুফাস্সিরীনে কিরামগণ উনারা বলেছেন যে, আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে হাক্বীক্বীভাবে ভয় করতে পারবে। উনাদের ছোহবত মুবারক ব্যতীত কেহ কখনো মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাক্বীক্বীভাবে ভয় করতে পারবেনা। নকশবন্দীয়া তরীকার বিশিষ্ট বুজুর্গ সুলতানুল আরেফীন হযরত আবু ইউসুফ হামদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি একদা স্বীয়-মুরীদ মুতাক্বীদগণ উনাদেরকে নসীহত কল্পে বলেন,  “হে আমার মুরীদ মুতাক্বীদগণ! তোমরা প্রতিদিন আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করবে।” সেই মজলিসে একজন ব্যবসায়ী ব্যক্তি ছিলেন। ইহা শুনে তিনি দাঁড়ালেন। হে আমার শায়খ! আমি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশে বিদেশের নানাস্থানে সফর করতে হয়। তাছাড়া সবস্থানে হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনার সন্ধান পাওয়া যায় না। আর পেলেও ব্যবসার কারণে প্রতিদিন আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা খুবই কঠিন। তখন সুলতানুল আরেফীন, হযরত আবু ইউসুফ হামদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাকে বললেন, তাহলে তুমি প্রতিদিন আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনার জীবনী সম্বলিত কিতাব হতে আট পৃষ্ঠা করে পাঠ করে নিও। আর ইহাতে তোমার আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করার ফায়দা হবে। উনাদের ছোহবত মুবারক উনার ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভ করতে পারবে। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)

আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের জীবনী পাঠ করলে  উনাদের বরকত ও সাকীনা লাভ হয়। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন- “নিশ্চয়ই ছলেহীন তথা আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের আলোচনা করলে রহমত নাযিল হয়।” (কিমিয়ায়ে সা’য়াদাত)

তাছাড়া সালিক বা সূফীগণের জন্য ইহা আরো বেশী জরুরী। কারণ জযবা, কোশেশ, কামিয়াবীর সোপান। আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের জীবনী মুবারক পাঠে তা বৃদ্ধি পায় ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বাড়ে। মারিফাত-মুহব্বতের পথ সুগম করে। সেই গুরুত্ব ও তাৎপর্যের প্রতি লক্ষ্য করে পরবর্তী আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের স্ব-স্ব মুরীদ মুতাক্বিদ কি তা পাঠ করার জোড় তাকিদ দিতেন। আবার কেহ কেহ নিজে পড়ে স্বীয় মুরীদ-মুতাক্বীদগনকে শুনাতেন।

মূলতঃ আবাল, বৃদ্ধ বনিতা সকলের পাঠ্য তালিকায় আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের মুবারক জীবনী থাকা আবশ্যক। প্রতিদিনই তা থেকে কিছু পড়া জরুরী। যে সমস্ত পিতা, মাতা তাদের সন্তানদেরকে ছোট বেলা থেকে আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের জীবনী মুবারক শুনাতেন তাদের সন্তানরা ওলী-আল্লাহ হওয়ার মন-মানুষিকা নিয়েই বেড়ে উঠতো। পরিণত বয়সে তাদের পক্ষ্যে ওলীআল্লাহ হওয়া সহজ হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের জীবনী মুবারক পাঠ ছেড়ে দেয়ার কারণে উনাদের শিক্ষা থেকে মানুষ অনেক দূরে রয়েছে। অনেক মুসলমানের ঘরে আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের জীবনী মুবারক খুঁজে পাওয়া যায় না। পিতা-মাতার মুখ থেকে কখনো সন্তানরা আওলিয়ায়ে কিরামের কাহিনী শুনতে পায় না। ফলে শিশুরা ছোট কাল থেকে আজে-বাজে কাহিনী নভেল নাটকের সাথে পরিচিত হয়। ইহুদী-নাছারাদের জীবনী পাঠে অভ্যস্ত হয়। তাতে খুই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। পরিণত বয়সে ইহুদী নাছারাদের গোলামে পরিণত হয়। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুসলমানদেরকে সেই গোলামীর শিকল হতে মুক্ত করার লক্ষ্যে হাক্বীক্বী ঈমানদার হিসেবে বসবাসের জন্য মুসলমানদের হাক্বীক্বী শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার সদয় অনুমতি দিয়েছেন। দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার মধ্যে নিয়মিত আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের জীবনী মুবারক প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মুসলমানগণ উনারা যদি আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের জীবনী মুবারক হতে ইবরত-নসীহত গ্রহণ করে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার কোশেশ করে তাহলে তারা আবার পূর্বের গৌরব ফিরে পাবে। আমরা উনার নেক দৃষ্টি পেলে সেই শূন্যতা পূরণ করার অবকাশ পাব ইনশাআল্লাহ।

সূত্র : আল ইহসান শরীফ

বিষয় : ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা, আওলিয়ায়ে কিরাম, ওলী আল্লাহ, রহমতুল্লাহি আলাইহি
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »