ইমামুছ ছালিছ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবসকে যথার্থ তা’যীম-তাকরীম করতে পারলেই কামিয়াবী
উসওয়াতুন হাসানাহ | ৭ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “হে আমার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বান্দাদেরকে জিন-ইনসানকে, সারা কায়িনাতবাসীদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভাব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকালে ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা- উনাদের খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

এবং মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত, করো। কেননা তিনি তোমাদেরকে নিয়ামত সামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ মুবারক করে থাকেন। আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমাকে মুহব্বত করো। আর তোমরা আমার মুহব্বত, মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র আয়াত শরীফ ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত, মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি পেতে চায়, তবে অবশ্যই তাকে ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার যথার্থ তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতে হবে, ছানা-ছিফত মুবারক ও উনার খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দিতে হবে। অন্যথায় কারো পক্ষে কস্মিনকালেও কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব নয়। কেননা তিনি হচ্ছেন হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান সদস্য। সুবহানাল্লাহ! উনার মাধ্যমে ক্বিয়ামত পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশ মুবারক জারি থাকবে। সুতরাং উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী-সম্মান বলার অপেক্ষাই রাখে না। সুবহানাল্লাহ!

উনিই হচ্ছেন বেহেশতী যুবক উনাদের সাইয়্যিদ। এবং যমীনের মাঝে উনিই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যিনি কঠিন সময়ে জান দিয়ে আমাদেরকে বুঝিয়ে গিয়েছেন যে- আমরা কিভাবে হক্বের পথে ইস্তিক্বামত থাকবো। সুতরাং উনার শান-মান, মর্যাদা, বুযূর্গী মুবারক বর্ণনা করা কায়িনাত মাঝে কারো পক্ষে সম্ভব নয়। প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীগণ উনাদের জন্য ফরয হলো- মহাপবিত্র ৫ই শা’বান শরীফ উনার যথার্থ তা’যীম-তাকরীম করা ও যথার্থ খিদমতের আঞ্জাম দেয়া। কারণ সুমহান পবিত্র ৫ই শা’বান শরীফ ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। 

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন যামানার ইমাম ও উনার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলায় আমাদের সকলকেই ঐ সুমহান দিন উনার যথার্থ তা’যীম-তাকরীম করার তাওফীক দান করেন এবং আজীবন খিদমত মুবারক করারও যেন তাওফীক দান করেন। (আমীন)

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা, ইমাম, হুসাইন, ৫ শাবান, বিলাদত, আগমন আহলে বাইত, মুহব্বত, ভালবাসা, ফযীলত, গুরুত্ব, সম্মান, মর্যাদা, নবী, পরিবার, ঈমান
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »