ইসলামী ইসলামী শরীয়ত উনার বিধান সমূহ
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

ইমাম, মুজতাহিদগণ ইসলামী শরীয়ত উনার বিধানকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন, নিম্নে তা প্রদত্ত হল-
১. ফরয: এমন সব বিধান যা অকাট্ট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত এবং যা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। যেমন: ফরয নামায, রমদ্বান শরীফ উনার রোযা ও ইলমে তাছাউফ ও ইসলামী শরীয়ত উনার ইলম অর্জন করা ইত্যাদি। 
ফরয দু’প্রকার। যথাঃ 
(ক) ফরযে আইন: যে সব কাজ প্রত্যেক বালেগ-বালেগা, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী নর-নারীর উপর সমভাবে ফরয তাকে ফরযে আইন বলে। যেমন: নামায আদায় করা ও যাকাত দেয়া ইত্যাদি। 
(খ) ফরযে কিফায়া: যা কিছু লোক আদায় করলেই সকলে গুনাহ হতে বেঁচে যায় তাকে ফরযে কিফায়া বলে। যেমন: জানাযা নামায পড়া, মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফন করা, জিহাদ করা ইত্যাদি। 
২. ওয়াজিব: ইসলামী শরীয়ত উনার যে সকল হুকুম দলীলে যন্নীর দ্বারা সাব্যস্ত সেগুলোকে ওয়াজিব বলা হয়। যেমন: বিতর নামায, ছদকাতুল ফিত্র ও কুরবানী ইত্যাদি। 
৩. সুন্নত: মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যা বলেছেন, করেছেন বা অন্যের কোনো কথা বা কাজের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন তাকে পবিত্র সুন্নত বলে। 
সুন্নত দু’প্রকার। যথা:     
(ক) সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ: যে সমস্ত কাজ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সবসময় করেছেন এবং করার তাকীদ করেছেন যা বিনা ওযরে কোনো সময় ছাড়েননি। যেমন: আযান, ইকামত, খতনা করা ইত্যাদি। 
(খ) সুন্নতে গায়বে মুয়াক্কাদাহ: যে সকল কাজ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ করেছেন, কোনো কোনো সময় ছেড়েও দিয়েছেন সেই সমস্ত  কাজকে সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদাহ (সুন্নতে যাযেদাহ) বলে। যেমন: আছর ও ঈশার নামাযের ফরযের পূর্বে ৪ রাকাত সুন্নত নামায ইত্যাদি। 
৪. নফল (মুস্তাহাব): ফরয ও ওয়াজিবের চেয়ে অতিরিক্তি যা করা হয় তাই নফল। 
৫. হারাম: যা ফরযের বিপরীত। যা অকাট্ট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। যেমন: ছবি উঠানো, বেপর্দা হওয়া ইত্যাদি। 
৬. মাকরূহ: মাকরূহ যা দলীলে যন্নী দ্বারা প্রমাণিত। ইহা দু’প্রকার। যথা: 
(ক) মাকরূহে তাহ্রীমী: মাকরূহে তাহ্রীমী ওয়াজিবের বিপরীত যা হারামের কাছাকাছি। যেমন: তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে আদায় করা। (খ) মাকরূহে তানযিহী: যা পরিত্যাগ করা উত্তম তথা তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত। যেমন: বিনা অযুতে মসজিদে প্রবেশ করা ইত্যাদি। 
৭. মুবাহ: ঐ সমস্ত নতুন কাজ যা শরীয়তে নিষেধ নেই। যেমন- পোলাও, বিরিয়ানী, বুট ইত্যাদি খাওয়া। ট্রেন, মোটরগাড়ী, প্লেন ইত্যাদি যানবাহনে চড়া। 
৮. বিদ্য়াত: এমন বিষয় যার ভিত্তি শরীয়তে তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসে নেই তাকে বিদ্য়াত বলে। 
বিদ্য়াত দু’প্রকার। যথা: 
(ক) বিদ্য়াতে হাসানাহ্: যা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর নতুন উদ্ভব হয় এবং তা দ্বীনের সাহায্য করে থাকে অথবা সাহায্যকারী না হলেও দ্বীনের কোনো ক্ষতি করে না তাই বিদ্য়াতে হাসানাহ্। যেমন: নাহু, ছরফের কিতাব, তারাবীহ্ নামায জামায়াতে পড়া ইত্যাদি। 
(খ) বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ: যে নতুন বিষয় উদ্ভব হওয়ার কারণে দ্বীনের কিছুমাত্রও ক্ষতি হয়, তাই বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্। যেমন: ইহুদী, নাছারা ও ভ- মাওলানাদের কু-প্রথা, টাই, কিস্তি, টুঁপি ইত্যাদি বিধর্মী ও বিদ্য়াতীদের পোশাক পরিধান করা ইত্যাদি। 

 

সূত্র : আল বাইয়্যিনাত

বিষয় : ইলমে ফিকাহ উনার পরিচিতি ও প্রয়োজনীয়তা, ইসলামী, শরীয়ত, বিধান সমূহ, ফরয, ওয়াজিব, ‍সুন্নত, নফল, ফরযে আইন
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »