আক্বায়িদু আহলিস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ্ঈমান- আক্বায়িদ শুদ্ধ করার জন্য আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত উনার ইত্তিবা করার গুরুত্ব-তাৎপর্য
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১৯ ছফর, ১৪৩৫ হি:

ঈমান-আক্বায়িদ বিশুদ্ধ করা প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর জন্য ফরযে আইন। আক্বীদা পরিশুদ্ধ না হলে হাজারো লাখো আমল করেও কোন ফায়দা নেই, নাজাতও নেই। বর্তমান ১৫ শত হিজরীর মুজাদ্দিদে আযম, হাবীবুল্লাহ ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “৭২টি বাতিল ফিরক্বা গঠিত হয়েছে আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত উনার ফয়ছালাকৃত বিশুদ্ধ আক্বীদার খিলাফ করার কারণেই।

তিনি বলেন, “ক্বাদিয়ানী দীন ইসলাম মানে ও আমল করে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসূল হিসেবে মানে ও বিশ্বাস করে। শুধুমাত্র শেষ নবী ও রসূল হিসেবে মানেনা ও বিশ্বাস করেনা, তাই কাদ্বিয়ানীরা কাট্টা কাফির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। চির জাহান্নামী বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এর থেকে বুঝা যায় যে, পবিত্র ঈমান-আক্বীদা পরিশুদ্ধ করার কতটুকু প্রয়োজন রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আছরের (সময়ের) ক্বসম। নিশ্চয়ই দুনিয়ার সমস্ত ইনসান ও জিন ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে আছে। উনারা ছাড়া যাঁরা পবিত্র ঈমান এনেছেন (আক্বীদা শুদ্ধ করেছেন), সৎকর্ম করেন এবং পরস্পরকে তাকীদ করেন সত্যের ও তাকীদ করেন ধৈর্য্যের। (পবিত্র সূরা আছর শরীফ)

অত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এবং এছাড়াও আরো অসংখ্য আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আমলে ছলেহ তথা নেক কাজ গ্রাহ্য হওয়ার জন্য ঈমান বা আক্বীদা পরিশুদ্ধকরণকে পূর্ব শর্ত করা হয়েছে। হক্ব মত পথ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতকে অনুসরণ-অনুকরণ করার জন্য ও গোমরা-বাতিল দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ উনার ১৫৩ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “নিশ্চয়ই ইহা আমার সত্য পথ, তোমরা উহার অনুসরণ কর। তোমরা অন্যান্য (বাতিল) পথগুলির অনুসরণ কর না। কেননা, উক্ত পথগুলি তোমাদেরকে উনার (মহান আল্লাহ পাক উনার) পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত থাক।”

উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। ‘মিশকাত শরীফ’ কিতাবুল ঈমান বাবুল ই’তিছাম বিল কিতাবি ওয়াস্ সুন্নাহ-এর ২য় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্ নাবিয়্যীন, শাফিউল মুযনিবীন হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে একটি সরল রেখা টানলেন। অতপর বললেন, ইহা মহান আল্লাহ পাক উনার পথ। তারপর উক্ত (সরল) রেখার ডানে ও বায়ে কয়েকটি রেখা টেনে বললেন, এগুলি এমন কতগুলি পথ যে সমস্ত পথে এক একটি শয়তান বসে আছে, যে সেদিকে  লোকদিগকে ডাকছে। তৎপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন: “নিশ্চয়ই ইহা আমার সত্য পথ, তোমরা উহার অনুসরণ কর।” (পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৩)। পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম আহমদ, নাসায়ী ও দারিমী রহমতুল্লাহি আলাইহিম বর্ণনা উনারা করেছেন।

বিশ্বখ্যাত তাফসীরে আহমদী উনাতে হযরত মোল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ উনার ১৫৩ নম্বর আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উক্ত হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করে তার ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তা হচ্ছে- “হযরত আল্লামা ইমাম নাসাফী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল’ (বা তাফসীরে নাসাফী) তে বর্ণিত আছে; “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল আম্বিয়ায়ি ওয়াল মুরসালীন হযরত সাইয়্যিদুনা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা একটি সরল রেখা টানলেন। অতপর বললেন, ইহা হিদায়াতের পথ- সরল সঠিক পথ তাই তোমরা উনার অনুসরণ কর। তারপর তার পার্শে ৬টি বাঁকা রেখা টানলেন, অতপর বললেন, এগুলি এমন কতক পথ যে পথে শয়তান বসে আছে। যে সেদিকে লোক দিগকে ডাকছে। তাই তোমরা এ সকল পথ থেকে বেঁচে থাক। তারপর তিনি পবিত্র সুরা আনয়াম শরীফ উনার ১৫৩ নং আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত বাঁকা ৬টি পথের প্রত্যেকটিই ১২টি পথে (ফিরক্বায়) বিভক্ত হয়।  তাই বাতিল বা বাঁকা পথ ১২ x ৬ = ৭২টিতে পরিণত হয়। ইহাই উনার বানী ও একটি হক্ব ফিরক্বা আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামায়াত। ইহা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আয়াত শরীফ তিলাওয়াত মুবারক থেকে স্পষ্ট হয়। যে সময় তিনি রেখাগুলি টেনেছিলেন। একটি পথ ও পৃথক পৃথক অনেক পথ দ্বারা আসল উদ্দেশ্য হল: এ উম্মতে ইজাবাতের মধ্যে সর্বমোট ৭৩টি ফিরক্বা হবে তন্মধ্যে ৭২টি হালাক বা বাতিল হবে। আর একটি ফিরক্বাতুন্ নাজী বা নাজাত প্রাপ্ত দল হবে। আর এটিই হচ্ছে আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত।

‘মিশকাত শরীফে’ কিতাবুল ঈমান বাবুল ই’তিছাম বিল কিতাবি ওয়াস্ সুন্নাহ-এর ২য় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন- নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত ছিল (ইহুদীরা ৭১ দল, নাছারারা ৭২ দল)।

আর আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। প্রত্যেকটি দল জাহান্নামে যাবে, একটি দল ছাড়া। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন দলটি জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন: আমি ও আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যে মতে পথে আছি তাই জান্নাতী বা নাজাত প্রাপ্ত দল। ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহা বর্ণনা করেছেন।

হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ও আবূ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনাদের রিওয়ায়েতে হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম থেকে বর্ণিত আছে, ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে। আর একটি দল জান্নাতে যাবে, সেটি হচ্ছে আহলুস্ সুন্নাহ ওযার জামায়াত।

উক্ত কিতাবের উক্ত অধ্যায়ের উক্ত পরিচ্ছেদে আরো বর্ণিত আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার উম্মতকে গোমরাহীর উপর একত্রিত করবেন না। মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দয়া- অনুগ্রহ ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত উনার উপর রয়েছে। যে ব্যক্তি আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত’ ত্যাগ করবে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী জাহান্নামে যাবে। হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইহা বর্ণনা করেছেন।

উক্ত কিতাবের উক্ত অধ্যায়ের উক্ত পরিচ্ছেদে আরো বর্ণিত আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল কাওনাইনি ওয়াস্ সাক্বালাঈন হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমরা বড় দলের (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার) ইত্তিবা (অনুসরণ-অনুকরণ) কর। কেননা, যে ব্যক্তি আলাদা হয়ে গেছে, সে উহা হতে আলাদা হয়ে দোযখে যাবে।” হযরত ইবনু মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফ খানা হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।”

‘মিশকাত শরীফ’ কিতাবুল ঈমান বাবুল ইতিছাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ-এর ৩য় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে, হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রদ্বি¦য়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রহমতুল্লিল আলামীন সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের নেকড়ে বাঘ, ছাগলপালের নেকড়ে বাঘের ন্যায়। সে ছাগলপালের মধ্যে যেটি দল হতে পৃথক থাকে যেটি খাদ্যের অন্বষণে দূরে সরে যায় অথবা যেটি অলসতাবশত: এক কিনারায় পড়ে থাকে, সেটিকে ধরে খায়। তোমরা সাবধান থাক! তোমরা কখনো (আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত ছেড়ে) আলাদা হবে না। তোমাদের উপর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার আনুগত্য করা ফরযে আইন।” পবিত্র হাদীছ শরীফ খানা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন।”

উক্ত কিতাবের উক্ত অধ্যায়ের উক্ত পরিচ্ছেদে আরো বর্ণিত আছে, “আবূ যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি ‘আহলে সুন্নাত’ ওয়াল জামায়াত’ থেকে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে গেছে, সে ব্যক্তি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার রশি আপন ঘাড় হতে খুলে ফেলেছে।” হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আবূ দাঊদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা পবিত্র হাদীছ শরীফ খানা বর্ণনা করেছেন।

‘মিশকাত শরীফ’ কিতাবুল ঈমান বাবুল ইতিছাম বিল্ কিতাবি ওয়াস্ সুন্নাহ-এর ২য় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে, “ইরবাদ্ব্ ইবনে সারিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন, অতপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে এমন মর্মস্পর্শী নছীহত করলেন, যাতে সকলের চক্ষু থেকে পানি বর্ষিত হল এবং অন্তরসমূহ বিগলিত হল। এমন সময় এক ছাহাবী আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহা যেন বিদায় গ্রহণকারীর শেষ উপদেশ। তাই আমাদেরকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করতে উপদেশ দিচ্ছি (ইমাম, মুজাদ্দিদ, হক্ব আলিম উনাদের কথা) শুনতে ও উনার আনুগত্য করতে উপদেশ দিচ্ছি, যদিও তিনি হাবশী গোলাম হন। আমার পর তোমাদের মধ্যে যারা থাকবে তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে, তখন তোমাদের জন্য আমার সুন্নত ও আমার সৎপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনগণ উনাদের সুন্নত (তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত)-উনার আনুগত্য করা ফরযে আইন। তাই, তোমরা উহা আঁকড়িয়ে ধর এবং মাড়ীর দাঁত দ্বারা শক্ত করে কামড়িয়ে ধর। সাবধান! পবিত্র দ্বীন উনার ব্যাপারে (সম্মানিত শরীয়ত বিরোধী) নতুন কার্যকলাপ হতে বেঁচে থাক। কেননা, প্রত্যেক নতুন কার্যকলাপ (যার ভিত্তি সম্মানিত শরীয়তে নেই) বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ। আর প্রত্যেক বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ গুমরাহী বা ভ্রষ্টতা।” হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ দাঊদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবনু মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফ খানা বর্ণনা করেছেন।”

‘মিশকাত শরীফ’ ‘কিতাবুল ফিতান’ ১ম পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে, অর্থাৎঃ হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকগণ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ভাল বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, এ জন্য যে, যাতে আমি উহাতে লিপ্ত না হই। হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এক সময় আমরা মুর্খতা ও মন্দের মধ্যে  নিমজ্জিত ছিলাম। অতপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে এই কল্যাণ (আপনাকে ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে) হাদিয়া মুবারক করেন। তবে কি এই কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ আসবে?  তিনি বললেন, হ্যাঁ আসবে। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এই অকল্যাণের পর পুনরায় কি কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন হ্যাঁ আসবে। তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি আরজ করলাম, সেই ধোঁয়া কেমন? তিনি বললেন; লোকেরা আমার পবিত্র সুন্নত মুবারক বর্জন করে অন্য ত্বরীকা গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে লোকদিগকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন আপনি তাদের মধ্যে ভাল কাজও দেখতে পাবেন এবং মন্দ কাজও দেখতে পাবেন। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলোম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আসবে। জাহান্নামের দ্বারে দাঁড়িয়ে কতিপয় আহবানকারী লোকদেরকে সেই দিকে আহবান করবে। যারা আহবানে সাড়া দিবে তাদেরকে উহা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদেরকে তাদের পরিচয় জানিয়ে দিন। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তারা স্বাভাবিক মানুষের আকৃতিতে হবে এবং আমাদের মত কথা বলবে। আমি আরজ করলাম, আমি সে অবস্থার সম্মুখীন হলে তখন আমাকে কি নির্দেশ দেন? তখন তিনি (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তখন আপনি মুসলমানগণ উনাদের জামায়াত উনার (পবিত্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত) ও মুসলমানগণ উনাদের ইমাম (সম্মানিত মাযহাব উনার ইমাম, ত্বরীকা উনার ইমাম, মুজাদ্দিদ, গাউছ, কুতুব, হক্ব আলিম, ওলীআল্লাহগণ) উনাদের অনুসরণ করাকে ফরযে আইন করে নিবে। আমি আবার আরজ করলাম, সে সময় যদি কোন মুসলিম জামায়াত ও ইমাম না থাকেন (তখন আমাকে কি করতে হবে)? তিনি জবাবে বললেন, তখন আপনি সকল প্রকার বাতিল দল (৭২টি বাতিল ফিরক্বা)কে পরিত্যাগ করবেন, যদিও আপনাকে গাছের শিকড়ের আশ্রয় নিতে হয়। আপনি এই নির্জন অবস্থায় থাকবেন যতক্ষন না আপনার নিকট মউত উপস্থিত হয়।” (অর্থাৎ ইন্তিকাল পর্যন্ত সম্মানিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার অনুসরণ করতে এবং বাতিল ৭২ ফিরকা থেকে দূরে সরে থাকতে হবে। এতে যতই দুঃখ, কষ্ট আসুক না কেন।)” পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম বুখারী রহমুতল্লাহি আলাইহি ও ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বর্ণনা করেছেন।”

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী জিন-ইনসান উনাদের জন্য সম্মানিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার ইত্তিবা করা ফরযে আইন। আর ৭২টি বাতিল ফিরক্বা থেকে দূরে থাকাও ফরযে আইন। যেহেতু আক্বীদা শুদ্ধ না হলে নাজাত নেই।

সূত্র : মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরিফ

বিষয় : আক্বায়িদু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ, আক্বীদাহ, ইলমে ফিকাহ, ৭২টি বাতিল ফিরক্বা
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »