ত্বহারাত বা পবিত্রতার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

ত্বহারাতের মূল বিষয় হলো দু’টি। 

১. ত্বহারাত কাকে বলে? ২.ত্বহারাতের প্রকারভেদ। 

আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় দিক থেকেই ত্বহারাতের অর্থ হলো পরিচ্ছন্নতা, পাক পবিত্রতা। তবে এই ত্বহারাত বা পবিত্রতা জাহেরী ও বাতেনী উভয় ক্ষেত্রেই সমান অর্থবহ।

ফক্বীহ্গণের মতে ত্বহারাতের অর্থ হলো নিম্নরূপ:

হানাফী মাযহাবের ইমামগণের মতে হদছ ও খবছ হতে পাক-পবিত্র হওয়াকে ত্বহারাত বা পবিত্রতা বলে। হদছ বলতে হদছে আছগর ও হদছে আকবর উভয়ই এর অন্তর্ভূক্ত। যে সমস্ত অপবিত্রতা হতে পাক হওয়ার জন্য ওযূর প্রয়োজন হয়, তাকে হদছে আছগর বলে। আর যে সমস্ত অপবিত্রতা হতে পাক হওয়ার জন্য গোসলের প্রয়োজন হয়, তাকে ‘হদছে আকবর’ বলে। সুতরাং হদছ ও খবস এই উভয় প্রকার অপবিত্রতাই হলো জাহেরী অপবিত্রতার অন্তর্ভূক্ত। যেমন পেশাব-পায়খানা, রক্ত, মণি ইত্যাদি।

    মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাস, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় ত্বহারাত শব্দ দ্বারা জাহের ও বাতেন উভয়বিদ সমস্যার সমাধান করা হতো। কিন্তু তা ভিন্ন পরিম-লে ভিন্নরূপে বিকশিত হতে থাকে। জাহেরী ত্বহারাতগুলো মাসয়ালা মাসায়েলের আলোচনা, পর্যালোচনা, সমস্যা সমাধান, মীমাংসা ফক্বীহ্্গণ কর্তৃক সম্পন্ন হলেও বাতেনী ত্বহারাতগুলো পরবর্তীতে এ স্রোত দু’ধারায় প্রবাহিত হতে থাকে। 
    বাতেনী অপবিত্রতা গুলো: যেমন, হিংসা-বিদ্বেষ, রিয়া-অহংকার ইত্যাদি অপবিত্রতার আলোচনা, প্রতিকার ও সমাধান অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছূফীগণের দ্বারা হতে থাকে। ছূফীগণ মানুষকে সুপ্ত গুণাহ হতে ইছলাহ বা সংশোধন করেন। যাকে ইসলামী শরীয়ত উনার পরিষাভায় ‘ইলমে তাছাউফ’ বলে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্রতা ঈমান উনার অর্ধেক।”

    এখানে পবিত্রতা বলতে জাহেরী ও বাতেনী উভয় প্রকার নাপাকী হতে পবিত্র হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ্্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।” 
    আর এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ্্ পাক তিনি পরিচ্ছন্ন, তিনি ভালবাসেন পরিচ্ছন্নতাকারীকে।
    মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালাম পাকে আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “যে নিজেকে পবিত্র করেছে, সে সফলকাম হয়েছে।”
আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি কামিয়াবী হাছিল করেছে, যে পবিত্রতা অর্জন করেছে।” এ সমস্ত পবিত্র আয়াত শরীফে বলা হয়েছে যে, যারা ক্বলব বা অন্তরকে সর্বপ্রকার কুরিপু তথা শিরক, কুফরী, বিদআত, রিয়া, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি আভন্ত্যরীণ বা বাতেনী নাপাকী হতে ইছলাহ্্ বা সংশোধন করে নিরশঙ্কুশভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে নিমগ্ন হবে উনারাই সফলতা লাভ করবে। 

    ত্বহারাত পরিপূর্ণভাবে করা আবশ্যক, অন্যথায় নামাযে ক্রুটি বিচ্যুতি হতে পারে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফযরের নামায পড়ছিলেন, আর নামাযে পবিত্র সূরা রুম শরীফ তিলাওয়াত করছিলেন। কিন্তু তিলাওয়াতে লুকমা পরে, তিনি নামায শেষ করে বললেন, “তাদের কি হয়েছে যারা আমাদের সাথে নামায পড়ে অথচ উত্তমভাবে ত্বহারাত হাছিল করে না? এরাই আমাদের পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতে লুকমা পরার কারণ।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ত্বহারাত ব্যতীত নামায কবুল হয় না।”

    সুতরাং ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল, জানাযা, সিজদায়ে তিলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগী কোনো অবস্থাতেই ত্বহারাত বা পবিত্রতা ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল হবে না। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “তোমাদের কেউ নাপাকী অবস্থায় নামায পড়লে কবুল হবে না, যতক্ষণ না ওযূ করে।”
    অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নামায হলো বেহেস্তের চাবি আর ত্বহারাত হলো নামাযের চাবি।”
    এ সমস্ত হাদীছ শরীফ হতে ইবাদতের প্রতিক্ষেত্রেই অবস্থানুযায়ী ত্বহারাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টই প্রতীয়মান হয়। পবিত্রতা অর্জনে যদি ক্রটি থাকে তাহলে ইবাদতের প্রতিটি পর্যায়েই নিস্ফল কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়, মাথা ব্যতীত যেমন মানুষের অস্তিত্বের কথা ভাবা যায় না, তদ্রুপ ত্বহারাত ব্যতীতও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কোনো আমলের কথা কল্পনা করা যায় না। তাই ফিক্বাহের কিতাবসমূহের সর্বত্রই ত্বহারাত বা পবিত্রতার আলোচনা সর্বাগ্রে উল্লেখ করা হয়। কিতাবুত্ ত্বহারাতকে প্রারম্ভে বর্ণনা করার একটি কারণ হলো তা নামাযের চাবি।

 

“ত্বহারাত” শব্দের আভিধানিক অর্থ: 

“ত্বহারাত” শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পরিচ্ছন্নতা, পাক পবিত্রতা। আর ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় প্রকৃত ও অপ্রকৃত নাপাকী দূর করাকে ‘ত্বহারাত’ বা পবিত্রতা বলে। এখানে ত্বহারাত বা পবিত্রতা বলতে জাহিরী বা বাতেনী উভয় প্রকার পবিত্রতাকেই বুঝানো হয়েছে। 
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম পাকে ইরশাদ মুবারক করেন. “আপনার কাপড় (পোশাক-পরিচ্ছদ) পবিত্র রাখুন।” (পবিত্র সূরা মুদ্দাছ্ছির শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারীতে” কাযী ছানাউল্লাহ্ পানিপথী, মুজাদ্দেদী, হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে সুস্পষ্টভাবেই কাপড় বা পোশাক-পরিচ্ছদকে পবিত্র করার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। তাই পরিধেয় কাপড় বা পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখা ফরয। তবে এর সঙ্গে এ কথাটিও স্বীকার করতে হয় যে, শরীরও পবিত্র রাখা ফরয। কারণ পরিধেয় কাপড় বা পোশাক-পরিচ্ছদের চেয়ে শরীরের মূল্য অনেক বেশি। অর্থাৎ  শরীরের পরিধেয় কাপড় বা পোশাক-পরিচ্ছদ যদি অপবিত্র হওয়ার কারণে তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অপছন্দনীয় হয়, তাহলে শরীরের অপবিত্রতাও মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরো বেশি অপছন্দনীয় হবে। 
অনুরূপভাবে এ কথাটিও দিনের আলোর মতো আরো সুস্পষ্ট করে দেয় যে, ক্বাল্ব বা অন্তরও পবিত্র রাখা আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরয। কেননা ক্বাল্ব বা অন্তর শরীর অপেক্ষাও অধিক মূল্যবান। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিশ্বাস, মুহব্বত, মারিফাত, ভালোবাসা, মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ এ সকল কিছুর সম্পর্ক তো মূলতঃ ক্বাল্ব বা অন্তরের সঙ্গেই। এমনিভাবে তওবার সম্পর্কও ক্বাল্ব বা অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ভালোবাসেন তওবাকারী ও পবিত্রতার অধিকারী ব্যক্তিগণকেই। 

    সুতরাং পরিধেয় কাপড় বা পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ যদি পবিত্র রাখা ফরয হয়, তাহলে পোশাকের চেয়ে শরীরের মূল্য বেশি হওয়ায় শরীরও পবিত্র রাখা ফরয এবং শরীরের চেয়ে ক্বাল্ব বা অন্তরের মূল্য আরো অনেক বেশি হওয়ায় ক্বাল্ব বা অন্তরও পবিত্র রাখা আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরয। 
হযরত ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা তিনটি বিষয়কে ফরয প্রমাণ করেছেন। যেমন- (১) নামাযী ব্যক্তির পরিধেয় কাপড় বা পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখা ফরয। (২) নামাযী ব্যক্তির শরীর পবিত্র রাখা ফরয। (৩) নামাযী ব্যক্তি যে জায়গায় নামায আদায় করবেন সে জায়গায়ও পবিত্র রাখা ফরয। 

“তাফসীরে মাযহারীর” সম্মানিত লেখক কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী, মুজাদ্দেদী, হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, “উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফে শুধুমাত্র এই তিনটি বিষয়কে সম্পৃক্ত করা ঠিক নয়। কেননা মু’মিন-মু’মিনা তথা বিশ্বাসীগণকে (চলা-ফেরা, উঠা-বসা, খানা-পিনা) সর্বাবস্থায় সকল বিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে পবিত্রতা রক্ষা করে চলতে হয়। তবে নামাযের সময় এই তিনটি বিষয় অর্থাৎ (১) নামাযী ব্যক্তির পরিধেয় কাপড়, (২) শরীর এবং (৩) নামাযের জায়গা এই তিনটি বিষয় পবিত্র রাখা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার বিধানে সকলের ঐক্যমতে ফরয। 

    কিন্তু এ কথাটিও বিশেষভাবে ফিকির করতে হবে যে, সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার বিধানে যেখানে পরিধেয় কাপড় বা পোশাক-পরিচ্ছদ ও শরীর বা দেহ পবিত্র রাখা ফরয প্রমাণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে ক্বাল্ব বা অন্তর পবিত্র রাখা তো আরো অধিক উত্তমরূপে ফরয প্রমাণিত হয়। যেমন, অযূর বিধান সম্পর্কিত আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না। বরং তিনি (মহান আল্লাহ পাক) তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান  এবং তিনি (মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের প্রতি উনার নিয়ামতকে পূর্ণ করতে চান। যাতে তোমরা শুকরিয়া করো বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শুভসংবাদের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার এরাদা বা ইচ্ছা প্রকাশিত হয়েছে যে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না। অর্থাৎ অযূ, গোসল ও তায়াম্মুমের নির্দেশ মুবারক দিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না। বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার এমন বিধান নির্ধারণ করে দিতে চান, যা পালন করলে তোমরা শরীরের সকল প্রকার অপবিত্রতা এবং ক্বাল্ব বা অন্তরের সকল প্রকার গুণাহ থেকে পবিত্র হয়ে যাবে এবং মিরাজ তুল্য নামাযের চাবি তোমাদের হস্তগত হবে। কারণ বেহেশতের চাবি যেমন নামায, তেমনি নামাযের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা বা অযু, গোসল, তায়াম্মুম। 
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পূর্ণ নিয়ামত লাভকারী ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবে।” হযরত মুয়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ খানা বর্ণনা করেছেন আহমদ, ইবনে আবি শায়বা এবং তিরমিযী।
হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে এক পবিত্র আয়াত শরীফে বলা হয়েছে, “তোমরা আমার ঘরটি পবিত্র রাখো তাওয়াফকারীদের জন্য, ইতেকাফকারীদের জন্য এবং রুকু, সিজদাকারীদের জন্য।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
    হযরত ইবনে আববাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “একবার আমি এক কবর স্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখলাম দুই জন কবরবাসীকে আযাব বা শাস্তি দেয়া হচ্ছে, একজনকে পেশাবের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত না থাকার কারণে আর অপরজনকে পরচর্চার কারণে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ) 
মূল কথা হলো- নামায কবুল হওয়ার শর্ত দু’টি (১) বাতিনী আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা (২) জাহিরী বা বাহ্যিক পবিত্রতা। বাতিনী পবিত্রতার অর্থ হলো ক্বাল্ব বা অন্তরকে সমস্ত কুরিপু হতে যেমন শিরক, কুফরী, বিদয়াত, হিংসা-বিদ্বেষ, রিয়া-অহংকার, কাম, ক্রোধ, মদ, মোহ, মাৎসর্য্য পরশ্রীকাতরতা, পরচর্চা ইত্যাদি সমস্ত প্রকার বদখাছলত বা কুস্বভাব হতে পবিত্র করা, যাকে সম্মানিত শরীয়তে পৃথকভাবে ‘ইখলাছ’ বলা হয়, যা ইলমে তাছাউফেরই নামান্তর। আর জাহিরী পবিত্রতা বলতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত বাহ্যিক নাপাকী যেমন পেশাব, পায়খানা, রক্ত, মণি বা বীর্য ইত্যাদি হতে শরীরকে পাক করা, আর এটাই হলো প্রত্যেকটি মানুষের পবিত্র ঈমান উনার পরিপূর্ণতার অর্ধেক। 
    এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম পাকে ইরশাদ মুবারক করেন, “এতে এমন লোক আছে, যারা পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্রতা অর্জনকারীকে মুহব্বত করেন।” (পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৮) 
    অর্থাৎ যারা জাহিরী-বাতিনী, জিসমানী-রূহানী সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে পাক-ছাফ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জন করতে চায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে মুহব্বত করেন, ভালোবাসেন।  
    এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারীতে” কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী, মুজাদ্দেদী, হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এখানে “যারা পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে” এ কথাটির অর্থ হচ্ছে যারা জাহিরী এবং বাতিনী উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে অর্থাৎ  যারা জাহিরী এবং বাতিনী উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হতে চায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে মুহব্বত করেন, ভালোবাসেন।” 

সূত্র : আল বাইয়্যিনাত

বিষয় : ইলমে ফিকাহ উনার পরিচিতি ও প্রয়োজনীয়তা, ত্বহারাত, পবিত্রতা, ইসলামে পবিত্রতা,
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »