ত্বহিরা, তয়্যিবা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করার চিন্তা করা কোনো মুসলমানের জন্য জায়িয নেই
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১০ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করার প্রশ্ন তো নেই ই বরং কোনো মুসলমানের জন্য এই চিন্তা করাও জায়িয নেই, যেহেতু উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আহলিয়া তথা উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং তিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনারা সর্বাবস্থায় একই সাথে সমস্ত কায়েনাতে বিরাজমান। ছুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে তিনি ইরশাদ করেন-
ولا ان تنكحوا ازواجه من بعده ابدا ان ذلكم كان عند الله عظيما.
অর্থ: “উনার অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার আহলিয়া  অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য জায়িয নেই। আল্লাহ পাক উনার কাছে এটা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।” [সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৫৩]

“তাফসীরে ইবনে কাছীর”-এর ৩য় খণ্ডের ৮০৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
ولهذا اجمع العلماء قاطبة على ان من توفى عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم من ازواجه انه يحرم على غيره تزوجها من بعده لانهن ازواجه فى الدنيا والاخرة وامهات المؤمنين.
অর্থ: “সমস্ত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা ইজমা করেছেন যে, হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার কোনো আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা অন্য কারো জন্য জায়িয নেই বরং হারাম। কেননা, উনারা ইহকালে উনার (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) সহধর্মিণী ছিলেন পরকালেও সহধর্মিণী হিসেবে থাকবেন। আর উনারা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকল মু’মিনগণের সম্মানিত মাতা।”

তাফসীরে মাযহারী-এর ৭ম খণ্ডের ৩৭২, ৩৭৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনু আবী হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনু যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “একদা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সংবাদ পৌঁছলো যে, এক ব্যক্তি বলেছে: হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল মুবারক-এর পর আমি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্ব¡া আলাইহাস সালাম উনাকে বিবাহ করবো। এ প্রেক্ষিতে উক্ত আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হয়।”

হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা নিষিদ্ধতার হুকুম আসার পূর্বে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলিয়া বিনতে যুবইয়ান’ নামের এক আহলিয়াকে তালাক দিয়েছিলেন। পরে তিনি জনৈক ব্যক্তির সহধর্মিণী হন এবং কয়েকজন সন্তান-সন্ততির জননীও হন।

হযরত ইমাম বাইযাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওই সকল আহলিয়াগণ বিবাহ নিষিদ্ধ আইনের বিধানের বাইরে যারা উনার সাথে নির্জন অবস্থানের সুযোগ পাননি।

এক বর্ণনায় এসেছে- “হযরত উমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতকালে আশয়াছ ইবনে কায়েস নামীয় এক আরবীয় ব্যক্তি হযরত মুস্তায়িযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বিবাহ করেছিলেন। হযরত উমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ খবর জানতে পেরে আশয়াছ ইবনে কায়েসকে প্রস্তর নিক্ষেপের মাধ্যমে হত্যা করতে মনস্থ করলেন। কারণ হযরত মুস্তায়িযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি ছিলেন- হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া। কিন্তু পরে তিনি যখন জানতে পারলেন যে, হযরত মুস্তায়িযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সঙ্গে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্জন অবস্থান হওয়ার আগেই তিনি উনাকে পরিত্যাগ করেছিলেন। তখন তিনি আশয়াছ ইবনে কায়েসকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করেন।” [তাফসীরে বাইযাবী, শায়খ যাদাহ, হাশিয়াতুশ শিহাব, তাফসীরে বাগবী, খাযিন, মাদারিকুত তানযীল ইত্যাদি তাফসীর গ্রন্থেও সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।]

সূত্র : মাসিক আল বাইয়্যিনাত

বিষয় : হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলিয়া, উম্মুল মু’মিনীন, আলাইহিন্নাস সালাম, বিবাহ, হারাম, মাসয়ালা
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »