সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, আযওয়াজুম মুতাহহারা, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলিয়াগণ উনাদের ফযীলত
উসওয়াতুন হাসানাহ | ২১ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর অসংখ্য স্থানে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণিত রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

 وازواجه امهاتكم.

অর্থাৎ- “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়াগণ (আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা তোমাদের (মু’মিনগণ উনাদের) মা।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

 لستن كاحد من النساء

অর্থ- “(হে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ!) আপনারা অন্যান্য মহিলাদের মতো নন।”

অর্থাৎ আপনাদের শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা অন্যান্য মহিলাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুবহানাল্লাহ!

মূলতঃ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে রুহানী, জিসমানী সার্বিক দিক থেকে গভীরতম, মুবারক ও সুমহান গভীরতম, অবিচ্ছেদ্য নিসবত থাকার কারণেই হযরত উম্মাহতুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, আযওয়াজুম মুতাহহারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুসম্মানিতা আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে পূতঃপবিত্রা থেকে পূতঃপবিত্রাতমা করেছেন। এবং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতিটি আয়াত শরীফ এমনকি প্রতিটি হুরুফ ও নুক্তা শরীফ উনাদের মধ্যেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা ছিফত মুবারক উনার সাথে সাথেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবেই উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদের ছানা ছিফত রয়েছে। (সুবহানাল্লাহ!)

সমগ্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে যেমন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা ছিফতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যপূর্ণ গভীর ও নিবিড় সুসম্পর্ক এবং নিছবত বিদ্যমান। অনুরূপভাবে উম্মাহাতুল মু’মিনীনগণ উনাদের সঙ্গেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ, অকৃত্রিম এবং অবিচ্ছেদ্য অন্তর্নিহিত গভীর থেকে গভীরতম চিরস্থায়ী মহব্বতের চিরন্তন বন্ধনে চির আবদ্ধ। কাজেই যেখানেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানেই উম্মাহতুল ম’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ অবিচ্ছেদ্যভাবে রয়েছেন।

কেননা উনারা সুখে-দুঃখে সম-আনন্দে, সম-বেদনায় খেদমতে সাহায্য-সহযোগীতায় এবং সহ-মর্মিতায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূত ও পবিত্রতম অন্তরের গভীরতম মুবারক এক কোনে মহান স্থান করে নিয়েছেন। তা থেকে কস্মিনকালেও জুদায়ী নন।

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদের মর্যাদা, মর্তবা, শান-মান, ও ইয্যতকে কেহ-ই পরিমাপ করতে কস্মিনকালে পারেনি এবং পারবেও না। কারণ উনাদের সাথে মহান হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে গভীর থেকে গভীরতম এক নিগুঢ় ও তাত্ত্বিক সুমহান অবিচ্ছেদ্য নিসবত রয়েছে। উনারা নিজেদের ধন-সম্পদ, টাকা- পয়সা, শ্রম-সাধনা, ত্যাগণ্ডতিতীক্ষা এমনকি নিজের জানকেও উৎসর্গ করতে বিন্দু থেকে বিন্দুতম দ্বিধাগ্রস্থ হননি। বরং তা থেকে ছিলেন পূত ও পবিত্র থেকে পবিত্রতম। যা কল্পনাতীত ও বর্ণনাতীত। এটাই ছিল উনাদের সুমহান আদর্শ, গুণ ও বৈশিষ্ট্য।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং আল্লাহ পাক উনার মহব্বতে কত যে গরক্ব ছিলেন, যা অন্য কোন মানুষের পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী এবং প্রশংসা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাকই পবিত্র কুরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন, অর্থ: “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূত: ও পবিত্রা থেকে পূত: ও পবিত্রাতমা সহধর্মীনী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ! আপনারা অন্যান্য কোন রমনীগণ উনাদের মত নন।” [সূরা আহযাব- ৩২]

কাজেই উল্লেখিত আয়াত শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রকাশিত হলো যে, উম্মাহাতুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদের শান-মান, মর্তবা-মর্যাদা কত অধিক। উনাদের প্রশংসায় মহান আল্লাহ পাকই বলে দিলেন যে, উনারা শানে-মানে-মর্তবায়- মর্যাদায় বে-মেছাল সম্মানের অধিকারীনী। (সুবহানাল্লাহ)।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “ আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুমিনগণ উনাদের প্রাণের চেয়েও নিকট থেকে নিকটতম আর উম্মাহাতুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ হচ্ছেন মু’মিনগণ উনাদের পূত: ও পবিত্রা থেকে পূত: ও পবিত্রাতমা মাতা। [সূরা-আহযাব-৬]

এই আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমেও মহান আল্লাহ পাক হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদের শান-মান, মর্তবা-মর্যাদা তুলে ধরেছেন এবং সমস্ত জীন ও ইনসানের সম্মানিতা মাতা হিসেবে মুবারক লক্ববে ভুষিত করেছেন। এরূপ সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উনাদের শান-মান, মর্তবা-মর্যাদার আলোচনা করেছেন। আর এই শান-মান ও মর্যাদার আলোচনা করার কতটুকু ইল্মই বা আমাদের আছে!

তদুপরি আমাদের নিজেদের ধন্য করার লক্ষ্যে তা আলোচনা করা আমাদের প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও রমনীগণ উনাদের জন্য ফরয ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাই নয় এটাই হচ্ছে মূল ইবাদত তথা উত্তম ইবাদতের শামীল। এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বত, মারিফত, নৈকট্য নিসবত, কুরবত ও নাযাত হাছিলের উত্তম পাথেয়।

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, আযওয়াজুম মুতাহহারা, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সম্মানিত আহলিয়াগণ, ফযীলত
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »