নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আ’মাম (চাচাগণ), আম্মাত (ফুফুগণ) ও আখওয়াল (মামাগণ) উনাদের নাম
উসওয়াতুন হাসানাহ | ৪ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

আ’মামুহু তথা চাচাগণঃ

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার ভাইয়েরা মোট ১৩ জন ছিলেন। যাঁরা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার ছেলে ছিলেন।

উনারা হলেন-

১. হারিছ: তিনি পিতার বড় ছেলে ছিলেন। তিনি যমযম কূপ খননের সময় পিতার সহযোগিতা করেছেন। তিনি ইসলামের যুগ পাননি।

২. আবু ত্বালিব: যিনি আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার প্রায় ৪২ বছর খিদমত করেছেন। তিনি শুপারিশ পেয়ে জান্নাতী হবেন। (মুসলিম শরীফ)

৩. যাবীর: তার কুনিয়াত আবুল হারিছ। তিনিও যমযম কূপ খননের কাজে শরীক ছিলেন।

৪. আব্দুল কা’বাহ: তিনি ছোট বেলাতেই লিখতে শিখেছিলেন।

৫. আম্মুর রসূল সাইয়্যিদুশ্ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু: তিনি জলীলুল ক্বদর ছাহাবী ছিলেন। তিনি উহুদ জিহাদে শাহাদাত বরণ করেন।

৬. আম্মুর রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু: তিনি জলীলুল ক্বদর ছাহাবী ছিলেন।

৭. মুক্বাব্বিম: তার কুনিয়াত আবূ বকর।

৮. হাজল: কেউ অন্য ক্বিরায়াতে জাহ্ল পড়েছেন। তার নাম মুগীরাহ। তাকে ‘খাল্খাল’ও বলা হতো।

৯. দ্বিরার: তিনি কুরাইশদের সুদর্শন ও দানশীল যুবক ছিলেন।

১০. কুছাম: তিনি নাবালিগ অবস্থায় ইন্তিকাল করেন।

১১. আবু লাহাব: তার অপর নাম আব্দুল উয্যা। তার ধ্বংসের ব্যাপারে সূরা লাহাব নাযিল হয়।

১২. গাইদাক্ব: তার নাম মুছয়াব। কেউ বলেন, নওফিল। তিনি অধিক দান করতেন এজন্য তাকে গাইদাক্ব বলা হত। কেননা, তিনি কুরাঈশদের মধ্যে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক ছিলেন এবং কুরাঈশদের মধ্যে অধিক দানশীল ছিলেন।

১৩. আবূ রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিছ্ ছলাতু ওয়াস সালাম।

(সুবুলুল হুদা ১১তম খণ্ড ৮২ পৃষ্ঠা, হালাবিয়াহ ৩য় খণ্ড ৪০০ পৃষ্ঠা, শরহুয্ যারকানী ৪ খণ্ড ৪৬৪, ৪৬৫ পৃষ্ঠা)

 

আম্মাতুহু তথা ফুফুগণ:

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফুফু ৬ জন। উনারা হলেন,

১.     উম্মু হাকীম: উনার নাম ছিল বাইদ্বা।

২.     আতিকাহ: কারো মতে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

৩.     বাররাহ:

৪.     আরওয়া: কারো কারো মতে, তিনিও ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

৫.     আমীমাহ:

৬.     আম্মাতুর রসূল হযরত ছফিয়্যাহ আলাইহাস সালাম। তিনি হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতা ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদীনা শরীফে হিজরত করেন। এমনকি হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতকালে ইন্তিকাল করেন।

(আস্ সীরাতুল্ হালাবিয়া ৩য় খণ্ড ৪০০ পৃষ্ঠা, শরহুয্ যারক্বানী ৪র্থ খণ্ড ৪৮৮ পৃষ্ঠা)

 

আখওয়ালুহু তথা মামা:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মামা ছিলেন হযরত আসওয়াদ ইবনে আব্দি ইয়াগূছ বা আসওয়াত বিন ওয়াহ্ আলাইহিস সালাম উনার থেকে হাদীছ শরীফও বর্ণিত আছে,

ورى ابن منده عن الاسود بن وهب خال النبى صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الا انبئك بشىء عسى الله ان ينفعك به.

অর্থাৎ “হযরত ইবনু মানদাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মামা হযরত আসওয়াদ ইবনে ওয়াহ্হাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই হযরত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (উনার মামাকে) বললেন, আমি কি  আপনাকে এমন কিছুর সংবাদ দিব না? যার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক অচিরেই আপনাকে উপকৃত করবেন।” (সুবুলুল্ হুদা ওয়ার রাশাদ ১১তম খণ্ড ১৪২ পৃষ্ঠা)

মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে আহলুল বাইত, উম্মুল মু’মিনীন ও আওলাদুর রসূলগণকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত ও অনুসরণ-অনুকরণ করে উনার ও তদীয় হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ মুহব্বত, মা’রিফত ও সন্তুষ্টি নছীব করুন। (আমীন)


তথ্যসূত্র: মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ, ১৮৫ তম সংখ্যা (বিশেষ সংখ্যা), পৃষ্ঠা: ১৩৮-১৩৯

সূত্র : মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ

বিষয় : সম্মানিত নিকট আত্মীয় ও পূর্বপুরুষ উনাদের পরিচিতি, আখেরী নবী, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আ’মাম, চাচা, আম্মাত, ফুফু, আখওয়াল, মামা, পবিত্র, নাম মুবারক
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »