সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীননূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক শেষে সংক্ষেপে দুরূদ শরীফ (সাঃ, দঃ ইত্যাদি) লিখা প্রসঙ্গে
উসওয়াতুন হাসানাহ | ২৭ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক শুনে জীবনে একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ফরয। আম ফতওয়া হলো একই মজলিসে একাধিকবার নাম মুবারক উচ্চারিত হলে একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব, আর প্রতিবারই দুরূদ শরীফ পাঠ করা মুস্তাহাব। আর খাছ ফতওয়া হলো একই মজলিসে যতবার নাম মুবারক উচ্চারিত হবে তত বার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব।

তদ্রুপ শরীয়তের হুকুম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখার সময় সম্পূর্ণ দুরূদ শরীফ লিখা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে যদি কেউ সংক্ষেপে (সাঃ) বা (দঃ) বা صلعم বা (SWS), (S.M), (D.M)  ইত্যাদি লিখে, তবে আম ফতওয়া হলো তা হবে মাকরূহ্‌ তাহ্‌রীমী। আর খাছ ফতওয়া হলো তা হবে হারাম ও কুফরী। [তাফসীরে রূহুল বয়ান, রূহুল মায়ানী, মাযহারী, জালালাইন, বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, মাআরিফুল কুরআন]

পূর্ববর্তী সকল তাফসীরগ্রন্থ এবং হাদীছ শরীফ উনার কিতাবগুলোতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিইয়ীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এর শেষে পূর্ণ দুরূদ শরীফসহ লিখা আছে। আর বর্তমানে প্রকাশিত প্রায় সকল ধরণের কিতাবাদি, বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদিতে দেখা যায়, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিইয়ীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক শেষে সংক্ষেপে দুরূদ শরীফ অর্থাৎ (সাঃ) বা (দঃ) লিখে থাকে। এ সংক্ষেপে লিখার প্রধান কারণ হিসাবে যা প্রকাশ পায়, তা হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিইয়ীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক বার বার লিখতে গেলে বেশি কাগজ লাগা, সময় বেশি লাগা ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ!

উল্লেখ্য, যাঁর প্রতি ফেরেশ্‌তা আলাইহিমুস সালাম, স্বয়ং আল্লাহ পাক দুরূদ শরীফ প্রেরণ করেন এবং মানুষকে দুরূদ শরীফ পাঠ করার জন্য আল্লাহ পাক আদেশ করেছেন এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে দুরূদ শরীফ পাঠের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। আর বিপরীতে দুরূদ শরীফ পাঠ করতে যারা গাফলতী করে, তাদের সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে অনেক দুঃসংবাদ রয়েছে এবং তাদের শেষ ফায়সালা হলো জাহান্নাম। এখন চিন্তা ফিকির করা দরকার যারা দুরূদ শরীফ লিখার সময় সামান্য কাগজ ও সময় বাচানোর জন্য সংক্ষেপে (সাঃ) বা (দঃ) ইত্যাদি দিয়ে লিখে, তাদের কি অবস্থা  হতে পারে?

সুতরাং যখনই, যতবারই আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখতে হবে ততবারই পূর্ণ দুরূদ শরীফসহ লিখতে হবে।

সূত্র : মাসিক আল বাইয়্যিনাত

বিষয় : উনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের প্রতি মুহব্বত ও আদব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার নাম, মুবারক, শেষে, সংক্ষেপে, দুরূদ শরীফ, (সাঃ), (দঃ), লিখা, শরীয়ত, আহকাম, ম
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »