সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীননূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মি’রাজ শরীফে মহিলাদের ভয়াবহ শাস্তি দর্শন
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১০ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

‘শিহাব’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, “মেয়েরা হচ্ছে শয়তানের ফাঁদ।” অর্থাৎ শয়তান পাপ করানোর জন্য মেয়েদের মাধ্যমে ফাঁদ তৈরি করে।
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, একদা আমি এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম আমরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে গেলাম। দেখলাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাঁদছেন। আমরা সবিনয়ে আরজ করলাম ইয়া হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি এভাবে কাঁদছেন কেন? জাওয়াবে তিনি বললেন, আমি পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাত্রিতে মহিলাদেরকে কঠিন আযাবে দেখেছিলাম। আজ হঠাৎ সেই ভয়াবহ আযাবের দৃশ্য মনে পড়ায় আমার চোখ মুবারক থেকে অশ্রু মুবারক ঝরছে। উনার উক্তি শুনে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সবিনয়ে আরজ করলেন ইয়া হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পবিত্র মি’রাজ শরীফ রজনীতে আপনি কি কি ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন?


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন:
(১) ‘আমি জনৈকা মহিলাকে তার চুল বেঁধে লটকিয়ে রাখতে দেখেছি। এ সময় তার মাথা থেকে মগজ বের করা হচ্ছিল।’
তার কারণ হচ্ছে, সেই মহিলা পর-পুরুষদের সামনে নিজের মাথার চুলকে খুলে রাখতো ফলে তা পর- পুরুষদের দৃষ্টি গোচর হতো।
(২) ‘অপর এক মহিলাকে দেখলাম, তার জিহবা বেঁধে তাকে লটকিয়ে রাখা হয়েছে এবং তার হাত দুটি পিছনের দিকে রয়েছে।’
তার কারণ হচ্ছে- সেই মহিলা স্বীয় জিহবা বা বাকযন্ত্রের সাহায্যে নিজের স্বামীকে কষ্টদায়ক কথা-বার্তা বলতো।

(৩) ‘অন্য এক মহিলাকে দেখলাম, তার বক্ষের বিশেষ স্থান বেঁধে তাকে লটকিয়ে রাখা হয়েছে এবং তার হস্তদ্বয়কেও পিছনের দিকে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর এ সময় বিষাক্ত যাক্কুম ফলের রস (এক প্রকার কাঁটাযুক্ত ফলদ্বার বৃক্ষের রস) নিংড়িয়ে তা ফোটা ফোটা করে তার গলায় দেয়া হচ্ছে।’
তার কারণ হচ্ছে- সে স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্যের শিশু বাচ্চাকে নিজের বুকের দুধ পান করাতো।
(৪) ‘আরেকজন মহিলাকে দেখলাম, তার হাত, পা বেঁধে তাকে লটকিয়ে রাখা হয়েছে এবং তার প্রতি বিষাক্ত সাপ বিচ্ছুকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা তাকে দংশন করছে।’
তার কারণ হচ্ছে- সে স্বামীর বিনা অনুমতিতে ঘরের বাইরে চলে যেত এবং স্বাভাবিক মাজুর ও সন্তান হওয়ার কারণে মাজুর অবস্থায় গোসল করতো না।

(৫) অপর এক মহিলাকে দেখলাম- সে নিজেই নিজের দেহ ছিঁড়ে ফেঁড়ে ভক্ষণ করছে এবং তার নিচে আগুন প্রজ্বলিত রয়েছে।
তার কারণ হচ্ছে: সেই মহিলা পর-পুরুষকে দেখাবার জন্যে নিজেকে সুসজ্জিত করতো এবং মানুষের কাছে পরনিন্দা করে বেড়াতো। নাউযুবিল্লাহ!
(৬) অন্য এক মহিলাকে দেখলাম- তার দেহকে আগুনের কাঁচি দ্বারা কেটে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে: সেই মহিলা পর-পুরুষকে নিজের দৈহিক সৌন্দর্য ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখিয়ে বেড়াতো। নাউযুবিল্লাহ! 

সূত্র : মাসিক আল বাইয়্যিনাত

বিষয় : মুবারক মুজেযা শরীফ ও নছীহতমূলক ঘটনাবলী, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, পবিত্র মি’রাজ শরীফ, মহিলাদের ভয়াবহ শাস্তি, দর্শন, পরনিন্দা, স্বামী, কষ্টদায়ক, কথা, জবান, দৈহি
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »