নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলিয়া হওয়ার কারণেই অন্যান্য নারীদের উপরে উনাদের মর্যাদা
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১০ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন-
يا نساء النبى لستن كاحد من النساء
অর্থ: “হে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার যারা আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম; আপনারা অন্য নারীদের মতো নন।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩২)

এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত ও সর্বজনমান্য তাফসীরের কিতাব “তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
اى ليست كل واحدة منكن او المعنى لم توجد جماعة واحدة من جماعات النساء مثلكن فى الفضل قال ابن عباس اى ليس قدركن عندى مثل قدر غيركن من النساء الصالحات انتن اكرم على وثوابكن اعظم لدى. هذه الاية تدل على فضلهن على سائر النساء.
অর্থ: “হে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সহধর্মিণী হওয়ার কারণেই মর্যাদা, মর্তবা, ফযীলতের দিক থেকে কোনো মহিলাই আপনাদের সমকক্ষ নয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায়) বলেছেন, আপনাদের মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল, ফযীলত অন্যান্য সতী-সাধ্বী মহিলাগণের মতো নয়। বরং আপনাদের সম্মান-মর্যাদা, ফাযায়িল-ফযীলত, অধিক পুণ্য ও প্রতিদান আমার নিকটে অধিক মর্যাদা সম্পন্ন, অনেক ঊর্ধ্বে। এ আয়াত শরীফ-এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সমস্ত মহিলাগণের উপরে আপনাদের অধিক মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল, ফযীলত রয়েছে।” (অনুরূপভাবে তাফসীরে খাযিন ৫ম খণ্ডের ২৫৭ পৃষ্ঠা, তাফসীরে বাগবী ৫ম খণ্ডের ২৫৭ পৃষ্ঠা, তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল ৩য় খণ্ডের ৪৬৫ পৃষ্ঠা এবং অন্যান্য সকল নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থে আলোচনা রয়েছে।)

আল্লাহ পাক স্বয়ং উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে আহলে বাইত হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং পূত-পবিত্রা করেছেন

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি বলেন-
انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا
অর্থ: “হে আহলে বাইতগণ! আল্লাহ পাক চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)

এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
قال عكرمة ومقاتل اراد باهل البيت نساء النبى صلى الله عليه وسلم
অর্থ: “হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি ও মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, আয়াত শরীফ-এ ‘আহলে বাইত’ দ্বারা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।”

“তাফসীরে ইবনে কাছীর”-এর ৩য় খণ্ডের ৭৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
نص فى دخول ازواج النبى صلى الله عليه وسلم فى اهل البيت ههنا لانهن سبب نزول هذه الاية.
অর্থ: “এ আয়াত শরীফটি এটাই প্রমাণ করে যে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা আহলে বাইত-এর অন্তর্ভুক্ত।”

আয়াত শরীফ-এ উম্মুল মু’মিনীন উনাদের সাথে উনাদের সন্তান-সন্ততিগণও আহলে বাইত-এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। যেমনটি হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে। ‘তাফসীরে মাযহারী’-এর ৭ম খণ্ডের ৩৪০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবং তাবিয়ীনগণ উনাদের একটি বিরাট দল হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত কাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্যগণ উনারা বলেন: আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন- হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম।

“ছহীহ মুসলিম শরীফ”-এ বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “একদা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চাদরাবৃত হয়ে ঘরের ভিতর উপস্থিত হলেন। চাদরটির উপরে ছিলো উটের পশমের নকশা আঁকা। একটু পরে সেখানে উপস্থিত হলেন হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে চাদর দ্বারা ঢেকে নিলেন। এরপর এলেন হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম। তিনি উনাকেও চাদরে ঢেকে নিলেন। এরপর এলেন উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম। তিনি উনাকেও টেনে নিলেন চাদরের ভিতর। শেষে এলেন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম। আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকেও জড়িয়ে নিলেন চাদরের ভিতর। তারপর পাঠ করলেন এই আয়াত শরীফ, “হে আহলে বাইতগণ! আল্লাহ পাক চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” (অনুরূপভাবে তাফসীরে ইবনে কাছীর, আহকামুল কুরআন লিল কুরতুবী, আহকামুল কুরআন লি ইবনিল আরাবী, মিশকাত শরীফ এবং অন্যান্য হাদীছ শরীফ-এর কিতাবসমূহে হাদীছ শরীফটি বর্ণিত আছে।)

উপরোক্ত আয়াত শরীফ, তাফসীর এবং হাদীছ শরীফ-এর দলীল থেকে প্রমাণিত হলো যে, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ঐকমত্যে, আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম এবং সমস্ত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন আহলে বাইত।

সূত্র : মাসিক আল বাইয়্যিনাত

বিষয় : হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলিয়া হওয়ার, মর্যাদা
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »