নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক পালন করা প্রত্যেক উম্মতের ফরয
উসওয়াতুন হাসানাহ | ৭ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

“নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়িয়ে ধরো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাকো।” [পবিত্র সূরা হাশর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭]

এখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারকগুলি সূক্ষাতিসূক্ষভাবে পালন করতে হবে। আর উনার সুন্নত মুবারক যে আঁকড়িয়ে ধরবে তার জন্য বিশেষ মর্যাদা রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

“আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি ফিতনা-ফাসাদের যামানায় একটিমাত্র সুন্নত মুবারক উনাকে আঁকড়ে ধরবে, সে একশত শহীদ উনার সওয়াব লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ!

এখন আমরা জানি, একজন শহীদ উনার সওয়াব অনেক। তাহলে একশত শহীদ উনাদের সওয়াব তো আরো অধিক। এখন আমরা যদি একশত শহীদ উনাদের সওয়াব পেতে চাই, তাহলে আমাদেরকে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে। আর সুন্নত মুবারক উনাকে অনুসরণের দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে জান্নাতে অবস্থানের সৌভাগ্য লাভ করা যায়। সুবহানাল্লাহ! আর সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণে আমল করলে সেই আমলের অনেক ফযীলত রয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!

একজন খাছ ওলীআল্লাহ তিনি বলেন,

সমস্ত ক্বায়িনাতের আমল যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর পবিত্র সুন্নত মুবারক যদি অপর পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে সুন্নত মুবারক উনার পাল্লা ওজনে বেশি ভারী হবে। সুবহানাল্লাহ!

শুধু তাই নয়, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সুন্নত মুবারক উনাদের অনেক ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণিত রয়েছে সুন্নত মুবারক উনাদেরকে অনুসরণের ফলে:

(১) রহমত লাভ করা যায়। 
(২) হিদায়েত লাভ করা যায়।
(৩) সব কাজে সফলতা অর্জন করা যায়।
(৪) একশত শহীদ উনাদের সওয়াব লাভ করা যায়।
(৫) সুমহান জান্নাত নসীব হয়।
(৬) মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিল করা যায়। সুবহানাল্লাহ!

এখানে কয়েকটি সুন্নত মুবারক উল্লেখ করা হলো, যেমন- খানা খাওয়ার সুন্নত:

(১) খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলা।
(২) দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া।
(৩) কাঠের প্লেটে খাবার খাওয়া।
(৪) খাওয়ার শুরুতে এবং শেষে এক চিমটি লবণ খাওয়া।
(৫) খাওয়ার শেষে প্লেট/পেয়ালা চেটে খাওয়া।
(৬) বিজোড় সংখ্যা লোকমা খাওয়া ইত্যাদি।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিটি সুন্নত মুবারক পালন করার তাওফীক দান করেন। (আমীন)

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : সুন্নতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নত, মুবারক, পালন, উম্মত, ফরয
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »