আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের মর্যাদাপবিত্র বরাত উনার রাতে দুই রাকায়াত পবিত্র নামায বনী ইসরাইলের জনৈক বুযূর্গ ব্যক্তি উনার ‘চারশ’ বছরের ইবাদতের চেয়েও অধিক ফযীলতপূর্ণ
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১৫ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “একদা হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম তিনি একটি পাহাড়ের উঁচু চূড়ার উপর দিয়ে পথ চলতে ছিলেন। হঠাৎ করে ওই পাহাড়ের উপরেই একটি সাদা পাথর দেখতে পেলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি ওই পাথরের চারপাশে ঘুরে আশ্চর্যান্বিত হলেন। অতঃপর উনার আশ্চর্যবোধ হওয়া দেখে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে ওহী মুবারক করে বললেন, হে আমার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম! আপনি সাদা পাথরখানা দেখেই আশ্চর্য হয়েছেন! এর চেয়ে আশ্চর্যজনক বস্তু আপনি কী দেখতে চান?

এর জবাবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি ‘জ্বি’ বলতে না বলতেই পাথরটি ফেটে গেল। পাথরের মধ্যে সবুজ রঙের লাঠি হাতে একজন মহান বুযূর্গ ব্যক্তি দাঁড়ানো আছেন এবং উনার সামনে একটি আঙ্গুরের গাছ বিদ্যমান। অতঃপর সেই বুযূর্গ মহান ব্যক্তি তিনি বললেন, এটা আমার প্রতি দিনের খাবার। অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি ওই মহান বুযূর্গ ব্যক্তি উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি কতকাল পর্যন্ত এই সাদা পাথরের ভিতরে থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত আছেন?

জবাবে বুযূর্গ ব্যক্তি তিনি বললেন, সুদীর্ঘ চারশ বছর ধরে এই পাথরের ভিতরে আমি ইবাদত-বন্দেগী করছি। তখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি (আরো আশ্চর্য হয়ে) বললেন, ইয়া বারে ইলাহী! আমার ধারণা যে, হয়তো বা আপনি এই মহান বুযূর্গ ব্যক্তি উনার চেয়ে আর কোনো উত্তম মাখলুক সৃষ্টি করেননি।

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার এই আবেগপূর্ণ বাণী মুবারক শুনে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতগণ উনাদের মধ্যে কোনো উম্মত যদি পবিত্র শা’বানের ১৫ই তারিখ রাতে তথা পবিত্র শবে বরাত উনার রাতে ২ রাকায়াত পবিত্র নামায আদায় করে তবে তা ওই মহান বুযূর্গ ব্যক্তি উনার চারশ বছরের ইবাদত হতেও উত্তম হবে। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি এ কথা শুনে বললেন, হায়! আমি যদি আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হতে পারতাম। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার এই মুবারক ফরিয়াদখানা সরাসরি কবুল করেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে প্রকাশিত হয়েছে যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন ফাযায়িল-ফযীলত, মান-শান, বুযুর্গী উনার মহান উসীলায় উনার উম্মত উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্রতম শবে বরাত হাদিয়া করেন। যা অন্য কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও উনাদের উম্মতগণ উনাদেরকে হাদিয়া করা হয়নি।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “এই মহান রাতের দু’রাকায়াত পবিত্র নামায বনী ইসরাইলের জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তির চারশ বৎসরের পবিত্র ইবাদতের চেয়েও অধিক ফযীলতপূর্ণ এবং এ বরকতময় রাতের পবিত্র ইবাদত-বন্দেগী বিশটি কবূল হজ্জের ছওয়াব, বিশ বছর পবিত্র রোযা রাখার ছওয়াব সমতুল্য। কোনো ব্যক্তি যদি পূর্ণ শা’বান শরীফ মাসই পবিত্র রোযা রাখে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর মৃত্যুর তাকলীফ (মৃত্যুর কষ্ট) সহজ করে দিবেন এবং কবরের অন্ধকার দূর করে দিবেন। অতঃপর মুনকার-নাকীর ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের প্রশ্নের ভয়াবহ অবস্থা দূর করে দিবেন এবং ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি তার ছতর আবৃত রাখবেন। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সঙ্গী করে দিবেন।
এছাড়াও আরো অসংখ্য সীমাহীন ফাযায়িল-ফযীলত ও বুযুর্গী এই পবিত্র শবে বরাত উনার মাঝে নিহিত রয়েছে।

(নুজহাতুল মাজালিস প্রথম খণ্ড)

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা, ১৫ শাবান, লাইলাতুল বরাত, শবে বরাত, উম্মতের মর্যাদা, বনী ইসরাঈল, চারশ বছরের ইবাদত
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »