সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়াহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৩৫ হি:

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়াহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে আমরা যতটুকু বর্ননা সংগ্রহ করতে পেরেছে তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। আমাদের জন্য আফসুস ও পরিতাপের বিষয় যে মুসলমান ইতিহাসবিদগণ উনাদের সম্পর্কে অনেক কম তথ্য রেখে গেছেন। তবুও আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সন্তুষ্টি পাওয়ার কোশেশ করেছি মাত্র।

সম্মানিত বিলাদত শরীফ:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মেয়ে আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ছানিয়া বা দ্বিতীয়া। তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে যমীনে তাশরীফ মুবারক রাখেন। ‘তারীখে ত্ববারী’তে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত বিলাদত শরীফ মুবারক উনার ক্রমধারা এইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-

ولدت حَضْرَتْ زينب عَلَيْهَا السَّلَامُ و حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ ام كلثوم عَلَيْهَا السَّلَامُ و حَضْرَتْ فاطمة عَلَيْهَا السَّلَامُ

“সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নাব আলাইহাস তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারা সম্মানিত বিলাদত শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন।” (তারীখে ত্ববারী ৩/১১২৮)

আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছেলে আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং মেয়ে আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন পঞ্চম। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নাব আলাইহাস সালাম উনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৩৩ বৎসর বয়স মুবারক-এ সম্মানিত বিলাদত শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। এই সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,

ولدت حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم سنة ثلاث و ثلاثين من مولد النبي صلى الله عليه وسلم

“দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক-এ যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৩৩ বৎসর বয়স মুবারক তখন বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত বিলাদত শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম)

সম্মানিত লালন-পালন মুবারক:

আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের বেমেছেল সম্মানিত আদর-যত্ন মুবারক-এ, সম্মানিত তত্ত্বাবধান মুবারক-এ লালিত-পালিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

ইলম মুবারক:

মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার ইলম মুবারক হাদিয়া করেছেন। শুধু সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হওয়া ব্যতীত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!

উনার ছূরত মুবারক:

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার সীরাত বা প্রকৃতি বা আকার-আকৃতি মুবারক যেমন ছিলো অত্যন্ত সুন্দর; তেমনি উনার ছূরত মুবারকও ছিলো অত্যন্ত সুন্দর। শুধু অনিন্দ্য সৌন্দর্য মুবারকই নয়- ইলম, আক্বল, সমঝ মুবারকেও তিনি ছিলেন পরম আকর্ষণীয়া।

সমগ্র আরবের মধ্যে কুরাইশরা ছিলেন সর্বাধিক অভিজাত। স্বভাবতঃই দৈহিক সৌন্দর্যেও উনারা ছিলেন সকলের ঊর্ধ্বে। তাদের মেয়েরাও ছিলেন খুবছূরতের অধিকারিণী। সে সময়ে খুবছূরত মুবারকের অধিকারিণী মেয়েদের মধ্যে যারা ছিলেন অধিকতর খুবছূরত উনার অধিকারিণী উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন অনন্যা। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার চেহারা মুবারক ও আকার-আকৃতি মুবারক ও খুবছূরত মুবারকের খ্যাতি সমগ্র পবিত্র মক্কা শরীফে ছড়িয়ে পড়ে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার জীবনসঙ্গিনীরূপে যে মহান ব্যক্তিত্বকে নির্ধারণ করেছিলেন সেই হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন তেমনি আকর্ষণীয় এবং মহাসৌন্দর্যের অধিকারী। সমসাময়িক কুরাইশ যুবকদের মধ্যে সৌন্দর্যে কেউ উনার মতো ছিলো না। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম ছিলেন হযরত উসামা ইবনু যায়িদ আলাইহিস সালাম। একবার তিনি উনাকে পাঠালেন সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে। হযরত উসামা ইবনু যায়িদ আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে কিছু ভুনা করা গোশত দিয়ে বললেন- যান, হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফে দিয়ে আসুন। আমি সেখানে গেলাম। দেখতে পেলাম, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনারা একই চাটাই মুবারকে বসে আছেন। উনাদের উভয়কেই এতো সুন্দর মুবারক দেখা যাচ্ছিলো যে, আমি অভিভূত হয়ে একবার সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার দিকে, আর একবার তাকাই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দিকে। আমার চোখকে ফিরাতে পারতাম না সহসাই। সুবহানাল্লাহ!

ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে একথা উল্লেখ করলাম। তিনি অত্যন্ত খুশি হয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন- বলুন তো, উনাদের চেয়ে অধিক সুন্দরতম স্বামী-স্ত্রী আর কাউকে দেখেছেন? আমি বললাম: জ্বী-না, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর কাউকে এতো সৌন্দর্যের অধিকারী কখনো দেখিনি। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ:

আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট প্রকাশ করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পুরুষ-মহিলা সকলের পূর্বে সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সাথে সাথে উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারাও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নাব আলাইহাস তিনি সংবাদ মুবারক পাওয়ার সাথে সাথে এসে তিনিও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারাই হচ্ছেন পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণকারিণী। সুবহানাল্লাহ!

শাদী মুবারক:

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক হয়েছিলো আবূ লাহাবের পুত্র উতবার সাথে। এটি ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিবাহ। উনাকে উতবার গৃহে যেতে হয়নি। তার আগেই সম্মানিত সূরা ‘লাহাব শরীফ’ নাযিল হওয়ার পর আবূ লাহাবের নিদের্শে উতবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়াহ আলাইহাস উনার থেকে জুদা হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ!

হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে আযীমুশ শান মহাসম্মানিত শাদী মুবারক:

উতবা যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার থেকে জুদা হয়ে যায় তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানিয়ে দেন যে, হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি মহান আল্লাহ পাক সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক জান্নাতে সুসম্পন্ন করেছি। সুবহানাল্লাহ! আপনিও উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারক দুনিয়ার যমীনে সুসম্পন্ন করুন। সুবহানাল্লাহ! তাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ! সেটাই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ ام المؤمنين حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ زَوِّجَ كَرِيـْمَتَيَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَحَضْرَتْ أُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ
“উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার সম্মানিতা দুই আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারক হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ! [মা’রিফাতুছ ছাহাবা-লিআবী নাঈম ২২/২২৪]

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عن حَضْرَتْ ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ أُزَوِّجَ كَرِيمَتَيَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يعنى حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ أم كلثوم عَلَيْهَا السَّلَامُ.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার দুই সম্মানিতা আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারক হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ! [ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ১/১১২, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৪/১৮, আল মু’জামুছ ছগীর ১/২৫৩, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩৮৯, আল ফাতহুল কাবীর ১/৩০৪, জামিউল আহদীছ ৭/৪৭৬, ইবনে আদী ৫/৭০, ইবনে আসাকির ৩৯/৪১, জামউল জাওয়ামি’ ১/৮৩৭২, যাখয়েরুল উক্ববা লি-মুহিব্বে ত্ববরী ১/১৬৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩৩, আর রিয়াদ্বুন নাদ্বরাহ ১/২০২ ইত্যাদি]

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عن حَضْرَتْ أنس بن مالك رضي الله عنه قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الشَّفِيعِ لِحَضْرَتْ عُثْمَانَ مَا أَنَا أُزَوِّجُ بَنَاتِي وَلَكِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُزَوِّجُهُنَّ.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য সর্বোত্তম সুপারিশকারী রয়েছেন। আমি আমার আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাদী মুবারক সুসম্পন্ন করিনি; বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সেটা সুসম্পন্ন করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! [মুস্তাদরকে হাকিম]

সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাঝে বেমেছাল মিল-মুহব্বত মুবারক বিদ্যমান ছিলো। আরবের লোকজন বলাবলি করতো এবং এই কথাটি উপমায় পরিণত হয়েছিলো যে,

أحسن زوجين رآهما إنسان حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ وزوجها حَضْرَتْ عثمان عَلَيْهِ السَّلَامُ
“মানুষের দেখা দম্পতির মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার জাওযুম মুর্কারাম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনারা সর্বোত্তম।” সুবহানাল্লাহ! [ইছাবাহ ৭/৬৯৮, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭/২২৩, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ৫/১৭৫ ইত্যাদি]

সম্মানিত হিজরত মুবারক:

আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৫ম সালে সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে হাবশায় (আবিসিনিয়ায়) হিজরত মুবারক করেন। হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হাবশায় হিজরত করার অনুমতি প্রার্থনা করেন তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اُخْرُجْ بِحَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ مَعَكَ
“আপনি হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনাকেসহ হাবশায় হিজরত করুন।” [মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫০]

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক-এ সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম এবং হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনারা হাবশায় (আবিসিনিয়ার) হিজরত করেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সম্মানিত খুছূছিয়াত সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন,

إِنَّهُمَا لاَوَّلُ مَنْ هَاجَرَ بَعْدَ لُوطٍ وَإِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِمَا الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ.
“হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম এবং হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনারা হচ্ছেন হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং হযরত লূত আলাইহিস সালাম উনাদের পর সর্বপ্রথম হিজরতকারী।” সুবহানাল্লাহ!’ [মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫০]

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَنَسًا يَقُولُ خَرَجَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ ومَعَهُ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ فَأَبْطَأَ خَبَرُهُمْ عَلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وَسَلَّمَ فَقَدِمَتِ امْرَأَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَتْ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ! قَدْ رَأَيْتُ خَتَنَكَ وَمَعَهُ امْرَأَتُهُ قَالَ عَلَى أَيِّ حَالٍ رَأَيْتِيهِمَا، قَالَتْ رَأَيْتُه قَدْ حَمَلَ امْرَأَتَه عَلَى حِمَارٍ مِنْ هَذِهِ الدَّبَّانةِ وَهُوَ يَسُوقُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وآله صَحِبَهُمَا اللهُ تَعَالَى إِنَّ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلامُ لأَوَّلُ مَنْ هَاجَرَ إِلَى اللهِ تَعَالى بِأَهْلِه بَعْدَ حَضْرَتْ لُوْطٍ عَلَيْهِ السَّلامُ
“হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে হাবশায় হিজরত মুবারক-এ গেলেন। উনাদের সংবাদ মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসতে দেরি হয়ে গেলো। এর মধ্যে একজন কুরইশ বংশীয় মহিলা হাবশা থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ-এ এলেন। তিনি বললেন, আমি আপনার জামাতাকে উনার আহলিয়াহসহ তথা সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনাকেসহ যেতে দেখেছি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানতে চাইলেন, আপনি উনাদেরকে কী অবস্থায় দেখেছেন? তিনি বললেন, আমি দেখেছি হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হযরত সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনাকে একটি দুর্বল গাধার উপর বসিয়ে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
صَحِبَهُمَا اللهُ تَعَالَى إِنَّ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلامُ لأَوَّلُ مَنْ هَاجَرَ إِلَى اللهِ تَعَالى بِأَهْلِه بَعْدَ حَضْرَتْ لُوطٍ عَلَيْهِ السَّلامُ
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের দু’জনের সাথী হোন। নিশ্চয়ই হযরত লূত আলাইহিস সালাম উনার পর হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজের সম্মানিতা আহলিয়াহসহ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লহ! [আল আহাদ ওয়াল মাছানী ১/১৪৭, আস সুন্নাহ ২/৫৯৬, দালাইলুন নুবুওওয়াহ ২/২৯৭, মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিআবী নাঈম ২২/২২৬, আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ ১৬/৫৩, উসদুল গবাহ ৩/৩৫২, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৩/৮৫, তারীখুল ইসলাম লিযযাহাবী ১/১৮৩ ইত্যাদি]

হাবশায় প্রায় ৮ বৎসর অবস্থানের পর উনাদের নিকট এই সংবাদ পৌঁছে যে, এখন পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অবস্থা ভালো রয়েছে। তখন উনারা সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু উনারা এসে দেখলেন যে, মক্কা শরীফ-এ এখন পূর্বের চেয়েও নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। তখন উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক-এ হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক এ রেখে তিনি পবিত্র মদিনা শরীফ হিজরত করেন। সুবহানাল্লাহ!

সন্তান-সন্ততি মুবারক:

হাবশায় অবস্থানকালে সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বিলাদত শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার নাম মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার উপনাম মুবারক হয় ‘আবূ আব্দিল্লাহ’ আলাইহিস সালাম। আপন পিতা-মাতা উনাদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফে আগমন করেন। তিনি যখন ছয় বছর বয়স মুবারক-এ উপনীত হয়েছিলেন, তখন উনার চোখ মুবারক-এ একটি মোরগ ঠোকর দিয়েছিলো। যার কারণে সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ প্রচ- আঘাত পেয়েছিলেন। আর সে অবস্থায় তিনি সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,
إِنَّ حَضْرَتْ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلامُ مَاتَ فِي جُمَادَى الأُولَى سَنَةَ أَرْبَعٍ وَهُوَ ابْنُ سِتِّ سِنِينَ.
“সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উছমান আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ মাসে ছয় বছর বয়স মুবারক-এ সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন” [মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৪৬]

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত জানাযার নামায মুবারক পড়ান এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি রওযা শরীফ-এ নেমে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার আর কোনো আওলাদ বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেননি।

সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ:

সম্মানিত মদীনা শরীফ পৌঁছার পর দ্বিতীয় হিজরীতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি মারিদ্বী শান মুবারক গ্রহণ করেন। তখন ছিল সম্মানিত বদর জিহাদ উনার সময়কাল। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক উনার প্রস্তুতি মুবারক গ্রহণ করেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার মারিদ্বী শান বেশি আকারে প্রকাশ পাওয়ার কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনাকে সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক-এ অংশগ্রহণ করতে হবে না। আপনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার জন্য সম্মানিত মদীনা শরীফেই অবস্থান করুন এবং উনার যথাযথ সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিন। সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেও একই কারণে সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন। এই সম্পর্কে ‘মুস্তাদরকে হাকিমে’ এসেছে,

خَلَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلامُ وَحَضْرَتْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ عَلَى حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلامُ فِي مَرَضِهَا وَخَرَجَ إِلَى بَدْرٍ وَهِيَ وَجِعَةٌ
“নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক আনজাম দেয়ার জন্য হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম এবং হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ রেখে সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক উনার উদ্দেশ্যে বের হন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার মারিদ্বী শান বেশি আকারে প্রকাশ পায়।”

সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক সংঘটিত হয় ১৭ রমাদ্বান শরীফ আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ ১৮ই রমাদ্বান শরীফ। তখন উনার বয়স মুবারক ছিলো প্রায় ২২ বছর। বিনতু মিন বানাতি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মেয়ে আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনিই সর্বপ্রথম সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। উনার পবিত্র কাফন-দাফন মুবারক উনাদের ব্যবস্থা করেন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করার পর উনার প্রতি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মুহব্বত মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

الْحَقِي بِسَلَفِنَا الْخَيْرِ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ
“আপনি আমাদের পূর্বসূরী হযরত উছমান ইবনে মাজউনের সাথে মিলিত হোন।” [মুসনাদে আহমদ, ত্ববরনী, আল ইছাবাহ ইত্যাদি]

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপস্থিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং তিনিই উনার মেয়ে আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। উনার সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণের কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং কান্না মুবারক করেন। পাশাপাশি পুরুষ এবং মহিলা সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও কান্না করতে থাকেন। সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যখন কাঁদতে থাকেন। এ সময় সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এসে উনার হাত মুবারকে চাবুক নিয়ে উনাদের কান্না মুবারক বন্ধ করতে উদ্যত হন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারক-এ ধরে বলেন, ছেড়ে দিন। উনারা তো কান্নাকাটি করছেন অন্তর মুবারক ও চোখ মুবারক-এ। আর অন্তর এবং চোখ মুবারক থেকে যা বের হয়, তা হয় মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রহমত মুবারক থেকে। আর হাত ও মুখ থেকে যে ক্রিয়া প্রকাশ পায় তা হয় শয়তান থেকে।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম সম্মানিত রওযা শরীফ উনার সেখানে যেয়ে অনেক কান্না মুবারক করেন এবং উনার জন্য বেমেছালভাবে দোআ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশে রওযা শরীফ মুবারক উনার নিকটে বসে কান্না করছিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত পোশাক মুবারক উনার কোণা দিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার চোখ মুবারক উনার পানি মুবারক মুছে দিচ্ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

উনার চারিত্রিক গুণাবলী মুবারক:

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি শুধু খুবছূরত মুবারকের অধিকারিই ছিলেন না, চারিত্রিক গুণাবলী মুবারকেও ছিলেন অতুলনীয়, বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক কোলে প্রতিপালিত। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরবিয়ত তথা সুশিক্ষাপ্রাপ্তা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার মধ্যে উভয়ের নৈতিক, চারিত্রিক ও আধ্যাত্মিক গুণাবলীর সমন্বয় ঘটেছিলো। তিনি ছিলেন প্রকৃতগতভাবে অত্যন্ত লাজুক। কথাবার্তা, আচার-আচরণে অত্যন্ত শালীন। পূত-পবিত্রতম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী, নিষ্পাপ। পরম ধৈর্যশীল, অল্পে তুষ্ট, বিপদাপদে দৃঢ়চিত্ত ও সুদৃঢ়। দুঃখ-কষ্ট বরণে তিনি বিশেষ পুরুষদেরকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। কাফিরদের নির্মম আচরণ ও নিপীড়ন তিনি নীরবে বরদাশত করেছেন। মুখ মুবারকে আহ্, ইশ শব্দ পর্যন্ত কখনো উচ্চারণ করেননি।

সম্মানিত মাতা-পিতা উনাদের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, মুহব্বত, খিদমত এবং স্বামীর প্রতি অটল মুহব্বত। সুখ-দুঃখে উনার সার্বক্ষণিক সাহচর্যে অবস্থানের যে বেমেছাল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মুসলমান মা-বোন, স্ত্রীদের অনুসরণ-অনুকরণের জন্য চিরন্তন উৎসাহ-অনুপ্রেরণার উৎসরূপে বিরাজ করবে।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী ও সম্মান মুবারক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী ও সম্মান মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি যেটা এক কথা মুবারক-এ বলে থাকেন, “আফদ্বালুন নিসা-আফদ্বালুন নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম অর্থাৎ তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি না এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না, এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!”

সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত ‘আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন, ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন’ তথা সারা কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন উনাদের প্রতেক্যের সাইয়্যিদা। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ’ তথা জান্নাতবাসী সমস্ত মহিলাগণ উনাদের সাইয়্যিদা। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন ‘বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসম মুবারক উনার সম্মানিত গোশত মুবারক উনার একখানা টুকরো মুবারক, লখতে জিগর। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক থেকে একখানা বিশেষ শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছে, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক-এ না যেয়েও সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক-এ উপস্থিত থেকে জিহাদ করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ উনার ফযীলত মুবারক উনার মধ্যে সমান অংশীদার হবেন। সুবহানাল্লাহ! এবং স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত বদর জিহাদ উনার সম্মানিত গনীমত মুবারক উনার মাল মুবারকও বণ্টন করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে,

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسَمَ يَوْمَ بَدْرٍ لِعُثْمَانَ سَهْمَهُ
“নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদে বিজয় হওয়ার পর যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য গণীমতের মাল বণ্টন করেছেন।” [মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫৩, যখায়েরুল উক্ববা]

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বিতীয়া বানাত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীনাছ ছানিয়া, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম। উনার পবিত্র জীবনী মুবারক আলোচনাকারী, পাঠকারী ও শ্রোতা মাখলুকগণ যতক্ষণ লিখতে থাকে, পাঠ করে, শুনতে থাকে ততক্ষণ উনারা সবাই পবিত্র রিসালত মুবারকের তাক থেকে ফয়েজ পেতে থাকে। ততক্ষণ তাদের নাম পবিত্র রিসালতের মাক্বামে লিখিত থাকে। সুবহানাল্লাহ! 

যে ব্যক্তি চান- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে- হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখতে- তার জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে পবিত্র ১৮ই রমাদ্বান শরীফ অত্যন্ত মুহব্বত ও সাখাওয়াতির সাথে পালন করা:

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قُل لَّا اَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرً‌ا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْ‌بٰى
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাই না, অর্থাৎ বিনিময় চাওয়াটা যেমন অস্বাভাবিক, তেমনিভাবে উম্মতের পক্ষে বিনিময় দেয়াও কখনোই সম্ভব নয় এবং বিনিময় দেয়ার চিন্তা-ফিকির করাটাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। তবে উম্মতকে যেহেতু নাজাত লাভ করতে হবে সেজন্য তাদের কর্তব্য হচ্ছে, তারা যেন আমার পবিত্রতম একান্ত আপনজন অর্থাৎ আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করে।” [পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩]

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, পবিত্রতম আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মুহব্বত রাখা প্রত্যেক মু’মিনের ঈমান। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرة ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا الله لـما يعذوكم من نعمة واحبونى لـحب الله واحبوا اهل بيتى لـحبى.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা মুহব্বত করো; কেননা তিনি খাওয়া-পরার মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে তোমরা মুহব্বত করো, মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম মুহব্বত হাছিলের জন্যেই। আর আমার পবিত্রতম আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তোমরা মুহব্বত করো আমার পবিত্রতম মুহব্বত হাছিলের জন্যেই।” সুবহানাল্লাহ! [তিরমিযী শরীফ]

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে কায়িনাতের সমস্ত জিন-ইনসানের জন্য তিন-তিনটি ফরযিয়াত মুবারক সাব্যস্ত হয়েছে। তা হচ্ছে- (১) মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত মুবারক করা। (২) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত মুবারক করা। (৩) পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করা। এই তিনটি বিষয় মুবারক পারস্পারিক এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত যে, উনাদের যে কোনো একটি বিষয় মুবারক উনাকে ব্যতিরেকে- কোনো মুসলমান তার ঈমান ও অস্তিত্বকে কল্পনা করতে পারে না। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্রতম মুহব্বত করাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেই মুহব্বত মুবারক করা। সুবহানাল্লাহ! উনাদের পবিত্রতম মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক হাছিল করা ব্যতীত কস্মিনকালেও কোনো ব্যক্তির পক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্রতম মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক হাছিল করা কোনোক্রমেই কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই এ পবিত্রতম মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক হাছিলের জন্যেই পবিত্র ১৮ই রমাদ্বান শরীফ উনাকে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম, ইয্যত-সম্মান, মুহব্বত ও সাখাওয়াতির সাথে পালন করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য ফরযে আইন। কেননা, এই পবিত্রতম ১৮ই রমাদ্বান শরীফ দিবস মুবারকই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম কলিজা উনার টুকরা মুবারক, পবিত্রতম নূরানী জিসিম মুবারক উনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মুবারক- যিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, খাতুনে জান্নাত, ত্বহিরা, ত্বইয়িবা, সাইয়্যিদা, রদ্বিয়্যাহ, মারদ্বিয়্যাহ, উম্মু আবীহা, বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ-ছানিয়া, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম বিছাল শরীফ গ্রহণ করার মুবারক দিন। যা সীমাহীন রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাজাতে পরিপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ! 

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম, আছ ছানিয়া, সাইয়্যিদাতুনা, হযরত, রুকাইয়া, আলাইহাস সালাম, সাওয়ানেহে ওমরী, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, জীবনী
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »