সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার ইলম ও পরহেযগারিতা
উসওয়াতুন হাসানাহ | ৪ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি হযরত আলী আওসাত হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ফকীহ আর দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। অথচ তিনি খুব কম হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮) 

হযরত ইমাম আবু হাজিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- বনি হাশিমগণের সমসাময়িকদের মধ্যে উনাকেই আমি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন দেখেছি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুসাইয়িব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি উনার মতো পরহিযগার আর কাউকে দেখিনি। 

মালিকী মাযহাবের ইমাম, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- “আমার নিকট এই মর্মে খবর পৌঁছেছে যে, ইমামুর রবি’ হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস্ সালাম তিনি দিন-রাতে এক হাজার রাকায়াত নামায আদায় করতেন। সুবহানাল্লাহ! আর এটা উনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ পর্যন্ত জারি ছিল। সুবহানাল্লাহ! এ কারণে উনাকে যাইনুল আবিদীন তথা ইবাদতকারীগণের সৌন্দর্য লক্বব মুবারকে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন সেই যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত গুজার। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, হিলয়াতুল আউলিয়া-৩/১৬৫, সুয়ারুম মিল হায়াতিত্ তাবিয়ীন/৩৪২) 

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “হিকমতপূর্ণ বাক্য জ্ঞানীর হারানো সম্পদ। কাজেই যেখানে বা যার নিকট উহা পাবে সেখান থেকে বা উনার নিকট থেকেই তা সংগ্রহ করবে।” ইমামুর রবি’ হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস্ সালাম উনার জীবন মুবারকে উহার পূর্ণ বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়। ইলমের প্রতি ছিল উনার অদম্য আগ্রহ। যেখানে পবিত্র ইলম উনার সন্ধান পেতেন সেখানেই ছুটে যেতেন। ধনী-গরিব উঁচু-নিচু কারো ভেদাভেদ করতেন না। সুবহানাল্লাহ!

একদিন হযরত ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা ইমামুর রবি’ হযরত ইমাম আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস্ সালাম উনাকে বললেন- “মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করুন। আপনি সমস্ত মানুষের সাইয়্যিদ সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আপনি একজন গোলামের মজলিসে বসেন। উল্লেখ্য যে, তিনি যায়িদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমী মজলিসে বসতেন। আর তিনি ছিলেন গোলাম। 

ইমামুর রবি’ হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন- “ইলম হাছিলের ক্ষেত্রে এরূপ মনোভাব থাকা সমীচীন নয়। বরং যেখানে ইলমের সন্ধান যাওয়া যাবে সেখান থেকে তা হাছিল করা উচিত।” (হিলয়াতুল আওলিয়া-৩/১৬২, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮)

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা, হযরত, ইমাম, আলী, আওসাত, যাইনুল আবিদীন, আলাইহিস সালাম, ইলম, পরহেযগারিতা
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »