ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা, অনুসরণ করা সবার জন্য ফরযে আইন
| ৭ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের জন্য।’

ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা, অনুসরণ করা এবং উনার পবিত্র জীবনী মুবারক জানা ও বেশি বেশি আলোচনা করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে সবার জন্য ফরযে আইন।

ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বিতীয় ইমাম অর্থাৎ হযরত ইমাম হাসান বিন আলী বিন আবী তালিব আলাইহিস সালাম তিনি কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় হিজরী ৩য় সনে পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার ১৫ তারিখ মুতাবিক তাসি’ ৮ শামসী সন (পূর্ব), ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার বাদ আছর পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। 

আমীরুল মু’মিনীন, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন: যখন ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে তাশরীফ মুবারক আনেন এবং ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সন্তান মুবারক উনাকে আমায় দেখান, উনার কী নাম মুবারক রেখেছেন? আমি বললাম: আমি উনার নাম মুবারক রেখেছি- হারব (যুদ্ধ)। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন: ‘বরং তিনি ‘হযরত হাসান আলাইহিস সালাম’। অর্থাৎ উনার নাম মুবারক হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! 

ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সর্বাপেক্ষা বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। সুবহানাল্লাহ! হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অপেক্ষা অপর কেউ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন না। সুবহানাল্লাহ!

হযরত আদী বিন ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত বারা’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র কাঁধ মুবারক উনার উপর ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করে, সে যেন (ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে মুহব্বত করে।” সুবহানাল্লাহ!

হিজরী ৪০ সনের পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস মুতাবিক তাসি’ ২৮ শামসী সনে ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত খলীফা মনোনীত হন। ৪০ হাজার লোক উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত হন। তিনি পবিত্র খিলাফত মুবারক ৬ মাস পর্যন্ত পরিচালনা করেন।

মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণে ৪৯ হিজরী সনের ২৮ ছফর মুতাবিক ৭ হাদী আশার, ৩৬ শামসী সনে, প্রায় ৪৬ বৎসর অর্থাৎ ৪৫ বৎসর ৬ মাস ১৩ দিন দুনিয়াবী বয়স মুবারক-এ তিনি শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করেন বা পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওজা শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী শরীফ-এ অবস্থিত।

মূলকথা হলো: সুমহান ও বরকতময় ১৫ই শা’বান শরীফ হচ্ছে- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। যা এ বছরের জন্য আগামী ১৫ই আউওয়াল-১৩৮২ শামসী সন, ১৪ই জুন-২০১৪ ঈসায়ী, ইয়াওমুস সাব্ত বা শনিবার। উনাকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা, অনুসরণ করা এবং উনার পবিত্র জীবনী মুবারক জানা ও বেশি বেশি আলোচনা করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে সবার জন্য ফরযে আইন। পাশাপাশি প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে, উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস উপলক্ষে বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা।

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা, ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি, সাইয়্যিদ, হযরত, ইমাম, হাসান, আলাইহিস সালাম, মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম, অনুসরণ, সবার জন্য ফরযে আইন
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »