সুমহান ও বরকতময় ৫ই শা’বান শরীফসাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার এবং ইমামুর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস
উসওয়াতুন হাসানাহ | ৫ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

সুমহান ও বরকতময় ৫ই শা’বান শরীফ-

হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্যতম ইমামুছ ছালিছ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার এবং ইমামুর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস।
যা কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ বা খুশির দিন।
এ উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ঈছালে ছওয়াব উনার মাহফিল করে উনাদের পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করে সর্বাত্মক ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা।

আর সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ পবিত্র ঈদ বা খুশির দিবসটি পালনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ পবিত্র দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করা।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরানী বংশোদ্ভূত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, ইজ্জত-সম্মান করা, খিদমত মুবারক করা এবং অনুসরণ করা কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরয।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা শূরা শরীফ উনার ২৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষ্যে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মারিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে মুহব্বত করবে এবং উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার জন্য।’

তিরিমিযী শরীফ ও মিশকাত শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা মুহব্বত করো। কেননা, তিনি তোমাদের প্রতি খাওয়া-পরার মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে তোমরা মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পাওয়ার জন্য। আর আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং আমার হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বত পাওয়ার জন্য।” সুবহানাল্লাহ!

তাই আমরা দেখতে পাই- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে শুরু করে পরবর্তী উম্মত উনারা সকলেই হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত, সম্মান, খিদমত ও অনুসরণ মুবারকের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। সুবহানাল্লাহ!

বুখারী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, যিনি আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন- মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! যাঁর কুদরতী হাত মুবারক-এ আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে, আমি আমার ঘনিষ্ঠজনদের থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘনিষ্ঠজন উনাদেরকে অধিক মুহব্বত করি। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, আওলাদে রসূল হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম তিনি যুবক বয়স মুবারক-এ একবার খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট তাশরীফ নিলেন। যেহেতু তিনি আওলাদে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাই খলীফা উনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে উনাকে উঁচু আসন মুবারক-এ বসালেন এবং যে উদ্দেশ্য মুবারক নিয়ে তিনি তাশরীফ নিয়েছিলেন উনার সেই উদ্দেশ্য মুবারক পূরণ করে দিলেন। তিনি চলে যাবার পর লোকেরা হযরত খলীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি একজন কম বয়সী বালক উনাকে উঁচু আসনে বসালেন কেন? তিনি বললেন, আমি নির্ভরযোগ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী উনাদের থেকে শুনেছি, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আমারই দেহ মুবারক উনার অংশ মুবারক। যে কাজে তিনি সন্তুষ্ট সে কাজে আমিও সন্তুষ্ট।” কাজেই, আমার এ কাজে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস তিনি যেমন সন্তুষ্ট হবেন তেমনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও সন্তুষ্ট হবেন। এজন্যই আমি এরূপ করেছি। সুবহানাল্লাহ! 

মূলকথা হলো- সুমহান ও বরকতময় ৫ই শা’বান শরীফ- হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্যতম, ইমামুছ ছালিছ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার এবং ইমামুর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। যা কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ বা খুশির দিন।

এ উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ঈছালে ছওয়াব উনার মাহফিল করে উনাদের পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করে সর্বাত্মক ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা। আর সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিলো- এ পবিত্র ঈদ বা খুশির দিবসটি পালনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ পবিত্র দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করা।

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের প্রতি মুহব্বত ও আদব, সাইয়্যিদুনা, হযরত ইমাম হুসাইন, আলাইহিস সালাম, ইমামুর রবি’, হযরত, ইমাম, যাইনুল আবিদীন, বিলাদত, জন্ম, দুনিয়ায় আগমন, দিবস
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »