সাইয়্যিদুল মুরসালীন, শাফউল উমাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনার শ্রেষ্ঠত্ব “মাক্বামে মাহমূদ” তথা শাফায়াতের অধিকার
উসওয়াতুন হাসানাহ | ১৫ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

عسى ان يبعثك ربك مقاما محمودا.

অর্থঃ- “অচিরেই আপনার প্রতিপালক আপনাকে ‘মাক্বামে মাহমূদ’-এ উন্নীত করবেন।” (সূরা বণী ইসরাঈল/৭৯)

উল্লিখিত আয়াত শরীফে আলোচিত মাক্বামে মাহমূদ হচ্ছে একটি অতি উচ্চ মর্যাদা বা মাক্বাম। পরকালে মহান আল্লাহ্ পাক উনার প্রিয় হাবীব, সাইয়্যিদুল খলায়িক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মাক্বাম দান করবেন। শুধু তাই নয় মহান আল্লাহ্ পাক সেদিন আরও অসংখ্য নিয়ামতরাজি দান করে ফখরে দো-আলম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন। আর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই হচ্ছেন একমাত্র নবী এবং রসূল যিনি “মাক্বামে মাহমূদ” এর অধিকারী হবেন। অন্য কেউই এর অধিকারী হবেন না।      

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। “মাক্বামে মাহমূদ” সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে ছহিবে “মাক্বামে মাহমূদ” হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, “মাক্বামে মাহমূদ” হচ্ছে শাফায়াতের অধিকার লাভ। যার অবস্থান আরশে মুয়াল্লার দক্ষিণ প্রান্তে। যেখানে আমি অবস্থান করে শাফায়াত করবো। ঐ স্থানে গমনের অধিকার আর কারও নেই। আমার পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ আমার এ মর্যাদা দেখে সশ্রদ্ধ ঈর্ষা পোষণ করতে থাকবেন।” (মাদারেজুন নুবুওওয়াত)

পরকালে তথা ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ্ পাক উনার প্রিয় হাবীব, ছহিবে বাইয়্যিনাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসংখ্য শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে থাকবেন। দুনিয়ার যমীনে যদিও তিনি শেষ নবী হিসেবে আগমন করেছিলেন; কিন্তু সেদিন প্রত্যেক ব্যাপারে তিনিই হবেন প্রথম। যেমন, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول اله صلى الله عليه وسلم انا سيد ولد ادم يوم القيامة واول من ينشق عنه القبر واول شافع واول مشفع.

অর্থঃ- “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আমিই হব বণী-আদম এর সাইয়্যিদ। এবং আমিই সর্বপ্রথম রওজা শরীফ হতে উঠবো। আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী হব এবং আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশের অনুমতি প্রাপ্ত হব।” (মুসলিম, মিশকাত)   সেদিন তথা ক্বিয়ামতের দিন ফখরে মওজুদাত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সকলের অগ্রে অবস্থান করবেন। পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে কেউই উনার সমকক্ষ হবেন না।   এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে,

عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انا اول اناس خروجا اذا بعثوا وانا قائدهم اذا وفدوا وانا خطيبهم اذا انصتوا وانا مستشفعهم اذا حبسوا وانا مبشرهم اذا ايسوا الكرامة والمفاتيح يو مئذ بيدى ولواء احمد يومئذ بيدى وانا اكرم ولدادم على ربى يطوف على الف خادم كانهم بيض مكنون او لؤلؤ منثور.

অর্থঃ- “হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমিই প্রথম উত্থিত হব যেদিন মানুষেরা কবর হতে উত্থিত হবে। আমিই তাদের সাইয়্যিদ হব যখন তারা আল্লাহ্ পাক-এর দিকে অগ্রসর হবে। আমি তাদের খতীব হব যখন তারা চুপ থাকবে। আমিই সুপারিশকারী হব যখন তারা চিন্তিত থাকবে। আমিই সুসংবাদদানকারী হব যখন তারা নিরাশ হয়ে যাবে। সমস্ত কল্যাণের চাবিকাঠি সেদিন আমার হাতে থাকবে। প্রশংসার পতাকা সেদিন আমারই হাতে থাকবে। আমি আল্লাহ্ পাক-এর নিকট বণী আদমের মধ্যে সবচেয়ে সম্মাণীত হব। আমার আশে-পাশে সেদিন এক হাজার খাদিম ঘুরাফিরা করবে। যারা হবে সুরক্ষিত ডিমের কুসুমের ন্যায় অথবা ছড়ানো ছিটানো মুক্তার ন্যায়।” (তিরমিযী, দারিমী, মিশকাত)

সেদিন হাবীবে আ’যম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশাধিকার লাভ করবেন। অন্য কেউই এ অধিকার লাভ করতে পারবে না।

যেমন হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انا اول من يقرع باب الجنة.

অর্থঃ- “হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বো (তথা প্রবেশ করবো)।” (মুসলিম, শরহুন্ নববী)      অন্য হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,

عن انس رضى اله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتى باب الجنة يوم القيامة فاستفتح فيقول الخازن من انت؟ فاقول محمد صلى الله عليه وسلم فيقول بك امرنى ان لا افتح لاحد قبلك.

অর্থঃ- “হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন জান্নাতের কাছে গিয়ে তার দরজা খুলতে চাইব। দরজার রক্ষী ফেরেশ্তা আমাকে বলবেন, আপনি কে? আমি বলব, আমি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম। তখন তিনি বলবেন, আমাকে আপনার সম্পর্কে নির্দেশ করা হয়েছে যে, আমি যেন আপনার পূর্বে কাউকে জান্নাতে প্রবেশ করতে ন দেই।” (মুসলিম, মিশকাত)

মূলতঃ আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করে শেষ করার মত নয়। উনার শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা লিখতে গিয়ে সমুদ্রের পানিকে কালি স্বরূপ এবং সমস্ত গাছ-পালাকে কলমরূপে ব্যবহার করা হলে এবং সমস্ত জ্বীন-ইনসান ক্বিয়ামত পর্যন্ত লিখতে থাকলেও সমুদ্রের পানি ও গাছ-পালা নিঃশেষ হয়ে যাবে, তবুও উনার শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা লিখে শেষ করা সম্ভব হবে না।

আল্লাহ্ পাক উনার প্রিয় হাবীব, ছহিবে ছালাত ও সালাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান-মান, মর্যাদা উপলব্ধি করতঃ উনার প্রতি যথাযথ তাযিম, তাকরীম ও সম্মান প্রদশন করার মাধ্যমে হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি আমাদের সকলকে নসীব করুন। (আমীন)

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা, মাক্বামে মাহমূদ, শাফউল উমাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম, শ্রেষ্ঠত্ব, শাফায়াতের অধিকার লাভ
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »