‘তাওবাতুল উম্মতে বি ইশকে হুসাইনিন’সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার উছিলায় তওবা
উসওয়াতুন হাসানাহ | ৪ শা’বান, ১৪৩৫ হি:

‘তাওবাতুল উম্মতে বি ইশকে হুসাইনিন’- একজন বুযুর্গ ব্যক্তি উনার কবিতাংশ এটি। অর্থ হচ্ছে, ইমাম হুসাইন আলাইহসি সালাম উনার মুহব্বতকারীদের তওবা কবুল হয়। হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদের তৃতীয় ইমাম, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বতে গরক সেই বুযুর্গ ব্যক্তি তিনি উনার মহান শান প্রকাশ করতে গিয়ে এটা লিখেছেন। আবুল বাশার হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ২০০ থেকে ৩০০ বছর কান্নাকাটি রোনাজারী করার পর যেদিন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উসীলা দিয়ে দোয়া মুবারক করলেন, সেদিন উনার দোয়া কবুল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো।
একইভাবে যারা সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শওক বা মুহব্বতে গরক থাকবে, উনার ছানা-সিফত করবে, উনার মুবারক আলোচনা করবে ও শুনবে, উনার খিদমত করবে তাদের সকলেরই দোয়া মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করবেন। উম্মত হিসেবে তাদের গুনাখাতা মাফ হবে। তারাও মর্যাদাবান হবেন। অর্থাৎ তাদের সমস্ত কাঙ্খিত বিষয়ই হাছিল হবে। সুবহানাল্লাহ!

উনার মুহব্বতই হচ্ছে ঈমান। উনার সাথে বিদ্বেষ পোষণ হচ্ছে কুফরী। উনার মুবারক শানে আলোচনা করলে বা শুনলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা খুশি হন। খুশি হন হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনারা। খুশি হন সমস্ত আল্লাহওয়ালাগণ। সাথে সাথে উনারা সবাই তাদের জন্য দোয়া করেন। সুবহানাল্লাহ!
ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শুহাদায়ে কারবালা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহান আহলে বাইত শরীফ উনাদের ১২ জন ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে তৃতীয় ইমাম।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহিউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ১২ জন ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনারাই প্রকৃত ইমাম।
হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদের তৃতীয় ইমাম, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার মুবারক কুনিয়াত হচ্ছে- আবু আব্দুল্লাহ।
উল্লেখ্য যে, প্রকৃত নাম মুবারক ধরে ডাকা বা সম্বোধন করা ছিলো আরবদেশে বা সম্ভ্রান্ত পরিবারের রীতিবিরুদ্ধ। শরীফ বা সম্ভ্রান্ত লোকেরা কখনো প্রকৃত নাম ধরে ডাকেন না। এজন্য উনারা কুনিয়াত বা উপনাম ব্যবহার করতেন। লক্বব মুবারক ব্যবহার করতেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রায় সকল হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে লক্বব মুবারক দ্বারা সম্বোধন করতেন।

আহলে বাইত উনাদের তৃতীয় ইমাম, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার লক্বব মুবারক বা উপাধি মুবারক অসংখ্য, অগণিত। তন্মধ্যে “শহীদ” ও “সাইয়্যিদ” লক্বব মুবারক দ্বারা তিনি বেশি সম্বোধিত হয়েছেন। পৃথিবীর সমস্ত হাক্বীক্বী মুসলমানগণই উনাকে গভীরভাবে মুহব্বত করেন এবং উনাদের বংশোদ্ভূত তথা সাইয়্যিদ পরিবার উনাদের খিদমত করেন।

যারাই বিগত ও আগত দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিগূঢ় নৈকট্য পেয়েছেন ও পাবেন উনারা প্রত্যেকেই সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তথা আহলে বাইত ও আওলাদে রসূল উনাদের মাধ্যমে পেয়েছেন ও পাবেন।
তিনি চতুর্থ হিজরী সনের পবিত্র শা’বান মাসের ৫ তারিখ জুমুয়াবার পবিত্র আছর নামায অন্তে দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ আনেন। উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার স্থান হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান পবিত্র মদীনাতুল মুনাওয়ারা শরীফ।
তিনি উনার সম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফ উনার মধ্যে ৬ মাস কাল অবস্থান করেছেন। ইহা উনার বিশেষ খুছুছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুবারক নাম রাখলেন “হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম”। তিনি এমনি সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন যে, রাতের অন্ধকারে বসলে উনার কপাল ও গ- মুবারক থেকে আলো বের হয়ে চতুর্দিক আলোকতি হয়ে যেতো। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

حسين منى و انا من حسين عليه السلام
حسين عليه السلام سبط من الاسباط

অর্থ: আমি সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এবং সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার থেকে। সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন অন্যতম বংশধারা।” অর্থাৎ আমার মুবারক বংশ উনার দ্বারা বিস্তার লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

সূত্র : দৈনিক আল ইহসান

বিষয় : ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা, তাওবাতুল, উম্মতে, বি ইশকে, হুসাইন, তৃতীয় ইমাম, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, মুহব্বত, সম্মান, ফাযায়িল, তওবা
এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন
« পূর্ববর্তী| সব গুলি| পরবর্তী »